করোনার আড়ালের জঘন্য রাজনীতি -পর্ব- ০৫

প্রকাশিত

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য : ভেবেছিলাম করোনা এবং আড়ালের রাজনীতি লিখতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের পর্ব বুঝি এ সপ্তাহে শুধু নয় বরং এই জীবনেও লিখে শেষ করে উঠতে পারবো না।

তবে আলহামদুলিল্লাহ । আমি যে উদ্দেশ্য নিয়ে লেখাটা শুরু করেছিলাম সেটার উপর ইতোমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ শুরু হয়ে গেছে। সে জন্য ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,তাঁর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, ঔষধ প্রশাসন, সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। ধন্যবাদ সেই আইনজীবীকেও যিনি অন্তত কোর্ট পর্যন্ত ব্যাপার টা নিতে সাহস দেখিয়েছেন।

এবার পুরানো কথায় ফিরে আসি – সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা ত্রাণ বিতরণ করা শুরু করেছেন সাধারণ ছুটি ঘোষণার ৪/৫ দিন পর থেকেই। এবং তখনই তিনি বলিষ্ঠ কন্ঠে এটাও বলেছিলেন যে, তার বাবা কম্বল চোরদের ক্ষমা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কোন ভাবেই চাল চোরদের ক্ষমা করবেন না।

এবং যেহেতু তিনি শেখ হাসিনা, তাই তাঁর মুখে উচ্চারিত কথা তিনি রাখবেন না! এটা হতে পারেনা। অন্তত আমার জীবনে আমি সেটা দেখিনি।

সেই প্রমাণিত চাল চোর সহ অন্যান্য ভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী সহ মোট ৩৫ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ১৯ জন ইউপি সদস্য এবং একজন জেলা পরিষদ সদস্য।

সবশেষ সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা হলেন- বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপির মো. নূরে আলম বেপারী, ভোলার সদরের রাজাপুর ইউপির মো. মিজানুর রহমান খান, পটুয়াখালী সদরের কমলাপুর ইউপির মো. মনির রহমান মৃধা,

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউপির শাহ আল শফি আনসারী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউপির মো. সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউপির জারজিদ মোল্লা এবং কালিয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী।

এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা হলো- নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মহিউদ্দিন সোহেল এবং একই উপজেলার কেশবপুর ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. লিপি বেগম।

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের সময় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ, জাটকা নিধনে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।

এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আল শফি আনসারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর সময় এলাকায় অবস্থান না করে বিনা অনুমতিতে বিদেশ গমন করেছেন এবং নেত্রকোনা জেলার গাঁওকান্দিয়া ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ষাড়ের লড়াই আয়োজনের মাধ্যমে গণজমায়েত করে জনজীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন।

তাদের কয়েকজন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন। এসব চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধমূলক কাজ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

একই সময় পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব দিতে বলা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

এখানের জঘন্য রাজনীতি টা দেখুন, চাল চোরদের নিয়ে পোস্ট গুলো লন্ডনের নির্দেশে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে সেখান থেকে ডলারের বিনিময়ে সেই নির্দিষ্ট পোস্ট গুলো বুস্টাপ এবং ভাইরাল করিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার কে অপদস্ত যতোটা করার ঠিক করিয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে চিহ্নিত অপরাধীদের যে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে সে খবর গুলো কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্য কেউই জানতেও পারেনি। কারণ শেখ হাসিনা বা আওয়ামিলীগ সরকারের ভালো কাজ গুলোর খবর কখনোই কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বুস্টাপ করে প্রচার করে না। এটা কে ঠিক দুর্ভাগ্যজনক বলতে পারছিনা কারণ, এটা দেশ বিরোধী চক্রের সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র। এদিকে আওয়ামিলীগের এতো বড় বড় নেতা হোতারা থাকার পরেও তারা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অথর্ব।

সরকারের সাইবার এক্সপার্ট টিম বলতে শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট টিম ছাড়া আর কেউ আছে বলেও আমার বিশ্বাস হয়না।

আর সেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক্সপার্ট টিম একা কি করেই বা এতো লক্ষ লক্ষ ফেক আইডি ডিটেক্ট করে সর্বোক্ষণ নজরদারীতে রাখবে সেটা ও আমার বোধগম্য নয়।

অথচ দেখুন গত ২০০৯ থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ কে যে আওয়ামিলীগ সরকার এনালগ বাংলাদেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্ব মাঝে প্রতিষ্ঠিত করেছে, গুজব ছড়ানোর সময় সেই ডিজিটাইজেশনে ফায়দা লুটে নিচ্ছে নির্দিষ্ট কুচক্রী মহল।

বার বার একই ঘটনা, একই ধরনের গুজব, একই ধরনের মিথ্যাচারের পর মিথ্যাচার করেই চলছে নিদিষ্ট সেই মহল এবং তাদের কর্মী বাহিনী। এবং সেই মহলের কর্মী বাহিনী কখনো যুদ্ধাপরাধীদের চাঁদে দেখাচ্ছে, কখনো স্বপ্নে আনাচ্ছে, কখনো গাছের পাতায়,কখনো মাছের টুকরায়।

২০০৯ সালে আওয়ামিলীগ সরকারের শপথ নেয়ার যখন দু’মাস ও কাটেনি তখন প্রথম হামলাটা করালো বিডিয়ার দিয়ে, ঠিক ষড়যন্ত্র করেছিলো দেশ স্বাধীনের আগে এবং ১৯৭৩-৭৫ এ।

এরপর ১০-১১-১২ সালে প্রায়ই মিছিলের নামে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর, মন্দির ভাঙচুর, পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে গুপ্ত এবং প্রকাশ্যে। ২০১৩ সালে সংখ্যালঘুদের উপর অবর্ননীয় অত্যাচার ছিলো সে সবের ই ফসল।

একই বছরে ৫ মে লেলিয়ে দিলো হেফাজতে ইসলাম নামের সেমি ধর্ম ব্যবসায়ী গ্রুপ কে সেদিন দুপুরে হাজার হাজার কোরআন শরিফে আগুন দিয়ে জ্বালালো বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে। তারপর রাতে যখন সরকার এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একশনে গেলো তখন ছড়ানো হলো গুজবের পাহার। ঘুমিয়ে রেস্ট নেয়ার সময়কার ভিডিও ফুটেজ কে প্রচার করলো সরকার লাশ ফেলেছে, আবার বিভিন্ন বিদেশী মুভির ক্লিপ জুড়ে ছড়িয়ে দিলো শেখ হাসিনার নির্দেশে করা মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ভিডিও শিরোনামে।

এরও আগে ২০১৩ সালে ফেব্রুয়ারিতে সেই একই মহল নেমেছিলো নাস্তিক খেতাব লাগিয়ে ব্লগার নিধনের মিশনে। একেক দিন একেক জন কে টার্গেট করে চালিয়েছে নিঃসংশয়ে হত্যা কান্ড, সেই টার্গেটে বাদ পরেনি কবি সাংবাদিক মুকমনা বা প্রগতিশীল অনেক বিখ্যাত লোকেরা। যাদের নাম বা কথা অনেকেই ভুলে গেলেও আমি ভুলিনি সেই খুন ধর্ষণ গুম সব কিছুই করে গেছে সীমাহীনতার কথা। তারপর এসেছিলো সেই দুর্ধর্ষ আগুন সন্ত্রাসের ৩ মাস চালালো মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব।
এভাবে এসছিলো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠাঁই দেয়ানোর ইমোশনাল এটাক করানোর ভিডিও লিংক ভাইরাল উৎসব। সে খানেও বিদেশী মুভির ক্লিপ, যুদ্ধের মুভি ক্লিপ, চায়নার বৌদ্ধদের নিয়ে ডকুমেন্টারি মুভির ক্লিপ ইত্যাদি।

এসেছিলো কোটা আন্দোলনের সময় গুজবের মহামারী, তথাকথিত অভিনেত্রী, ভার্সিটির শিক্ষার্থী সব সামিল হলো সেই গুজব প্রচারে। এর পর পদ্মা সেতুতে মাথা দেয়ার গুজব। এগুজবের কোন শেষ নেই।

এবার এলো নতুন রুপে গুজব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে এই করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৮ কোটি জনগনের চিন্তায় দিন রাত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে মাত্র ৩ বিশ্রাম নিয়ে বাকি ২১ ঘন্টার পুরো সময়টাই কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে সেই শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার বিরুদ্ধে
অপপ্রচারে উদ্দেশ্যে কোথাকার কোন মহিলা লকডাউনের দু’মাস আগে মাথার চুল কেটে বিক্রি করেছে না কি করেছে সেই খবরটা।

ঠিক মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলের সেই জাল পরানো উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যে খবরের মতো ভাইরাল করা হয়েছে। এবং তাতেও নির্বোধ কিছু অতি উৎসাহী জনগণ হা হুতাশ করে অস্থির….. আর হ্যা আগামীকাল প্রস্তুত থাকুন তারাবীহ নামাজ আদায় নিয়ে নতুন গুজবের….

চলবে….

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য
২৪ এপ্রিল ২০২০

(পরের পর্বে শেষ করার আশা রাখি, কারণ আগামীকাল থেকে পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে তাই একটু নিজের কাজে লেখার সময় পাবোনা। তবে আবার যদি কোন নতুন ষড়যন্ত্র বুঝতে পারি তবে অবশ্যই সবাইকে সচেতন করতে লিখবো)

শেয়ার করুন