২০ কোটি টাকার খবর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতঃ ঢামেক পরিচালক

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্হ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হয়েছে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন পরিচালক এ কে এম নাসির উদ্দিন।

গতকাল বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্হ্যকর্মীদের ‘এক মাসের খাবারের বিল’ ২০ কোটি টাকা এসেছে বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত সোমবার এ নিয়ে কথা বলেন তিনি। এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন হাসপাতাল পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘গত দুই মাসে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং আনসার সদস্যসহ মোট ৩,৬৮৮ জন। ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী তারা এক সপ্তাহ করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করার পর পরবর্তী তিন সপ্তাহ আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এ হিসাবে প্রত্যেককে এক মাস করে আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতে হয়।

গত দুই মাসে আবাসিক হোটেল ভাড়া, দৈনিক তিন বেলার খাবার এবং যাতায়াত ভাতাবাবদ সম্ভাব্য ব্যয় ২৬ কোটি টাকা হিসাব ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিকিৎসকদের এক মাসের খাবার খরচবাবদ ২০ কোটি টাকা শীর্ষক প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ দিকে ঢামেক হাসপাতালে ২ মে থেকে শুরু হওয়া গত মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা ইউনিটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৯০৪ জন রোগী চিকিৎসা জন্য হাসপাতালে আসেন । এর মধ্যে ১৫৮০ জন রোগী সুস্হ্য হয়ে বাসায় চলে যান। আগত রোগীদের মধ্যে ১৫৮৯ জন রোগী করোনায় পজিটিভ ছিল। মোট রোগীদের মধ্যে ৮৮৩ জন রোগী মারা গেছেন । এদের মধ্যে করোনা পজিটিভে মারা যান ২১৪ জন ।

শেয়ার করুন