হয়তো এটাই আমার জীবনের শেষ পোস্ট

প্রকাশিত

রাজিব হাসান অমি : হয়তো এটাই আমার জীবনের শেষ পোস্ট, হয়তো আর কখনো এই আইডি থেকে কোন পোস্ট বা রিপ্লাই আসবে না।

আমার ফ্যামিলির একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। যদি বেঁচে যাই তবে আবার হয়তো আমার লেখা নিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসবো।

ঘরে বসে আমরা যা কিছু যত সহজ ভাবছি, বাহিরে বিষয় গুলো ততোটাই কঠিন। হাসপাতাল গুলোতে ডাক্তার নেই, নাই পর্যন্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা। ২০০ জন রোগীর জন্য একজন নার্স, ১৮ ঘন্টায় কোন ডাক্তার বা মেডিকেল অফিসার ভিজিটে আসেনি।

করোনার জন্য কোন ওষুধও এখনো আবিষ্কার হয়নি, গতকাল এক নার্সকে ২০০০ টাকা দিলাম বললাম আমার পেশেন্টের একটু খেয়াল রাইখেন, পরেরদিন যখন যাই শুনি সে একবারও পেশেন্টর সামনে আসে নাই, এবং সেই নার্স টাকা ফিরত দিয়ে বলে, এই টাকার কোন মূল্য নেই, আমাদের কিছু করার নাই।

যে নার্স গুলো অন্যান্য সময় পেশেন্ট রিলিজের সময় টিপস এর জন্য ঘিরে ধরে রাখতো সে নার্সগুলো টাকা ফিরিয়ে দেয় বাস্তবতা কতটা ভয়াবহ হলে, একবার ভেবে দেখুন। হাসপাতাল গুলোতে রান্না করার বাবুর্চি গুলো পালিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর ভয়ে।

প্রতি নিয়তো বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা গানিতিক হারে। তাই এখনো সময় আছে ঘরে থাকুন, সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন।

covid19 টেস্ট করার সিরিয়াল পেতে সময় লাগে ৪/৫ দিন, রিপোর্ট পেতে সময় লাগে ৩/৪ দিন, তাও যদি আপনি সিস্টেম জানেন তাহলে।

প্রিয় ডাক্তার ভাইয়েরা,
আপনাদের বলছি, যারা ২০২০ সালের এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমি হয়তো আপনাদের বিজয় দেখে যেতে পারবোনা। কিন্তু আপনাদের একটা কথা বলে যেতে চাই, ১৯৭১ সালে এই দেশকে,এই দেশের মানুষের জীবনকে বাঁচাতে আমাদের পূর্ব পুরুষরা পাকিস্তান আর্মিদের মেশিন গান, ট্যাঙ্ক, কামান, গ্রেনেড, আর যুদ্ধ বিমানের মোকাবেলা করেছিল সামান্য লাঠি, কাঁচি, থ্রি নট থ্রি বন্দুক দিয়ে।

তারা ভয় পায়নি, নিশ্চিত মৃত্যু জেনেই তারা সে দিন ঝাঁপিয়ে পরেছিল। তারা এনে দিয়েছিল বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য।

আমরা আবারো এক অদৃশ্য শত্রু দ্বারা আক্রান্ত, আপনারা যারা ডাক্তার তারা একেকজন এক একটা সেক্টর কামান্ডার, যারা নেতৃত্ব দিতে পারেন এই যুদ্ধের।

আমরা বীরের জাতি, বীরেরা কাপুরুষ না যে মৃত্যু ভয়ে লুকিয়ে বলবে আমাদের অস্ত্র নেই কি দিয়ে যুদ্ধ করবো।

দেশের মানুষকে বাঁচাতে নিজেরা কি পারেনা না অস্ত্র ম্যানেজ করে সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে?? পিপিই, গ্লাভস কিনে অন্যান্য যে ডাক্তার ভাইয়েরা কোন কিছু না ভেবে মৃত্যুর কথা না চিন্তা করে দেশকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পরেছে সেই ডাক্তারদের সহ যোদ্ধা হতে!!

৩৫০ টাকার ডিসপসিবল পিপিই আর ৪০ টাকার গ্লাভস কেনার সামর্থ্য প্রতিটি ডাক্তারের আছে বলে আমি বিশ্বাস করি, অনলাইনে এখন পিপিই পাওয়া যায় সহজেই।

শত্রু অনেক শক্তিশালী, সেখানে অল্প কিছু ডাক্তারদের জীবন হুমকির মুখে যারা আপনাদের ছাড়া এই যুদ্ধে নেমেছে।

আপনারা যারা এখনো নিজেদের লুকিয়ে রেখেছেন তারা মনে রাখবেন এই যুদ্ধে যদি আমরা হেরে যাই, লাশের আত্মার আর্তনাদে আপনাদের চিরজীবন অনুশোচনা আর গ্লানি নিয়ে কাটাতে হবে, যে পলাশীর গ্লানি আমরা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি ঠিক তেমন, ইতিহাস কোন দিন ক্ষমা করবে না।

১৯৭১ সালের মুক্তি যুদ্ধ অনেক সহজ বিষয় ছিলোনা, অনেক সাহস আর দেশপ্রেমের জন্য তারা বিজয়ী হতে পেরেছিল।

দেশের কথা ভেবে দেশের মানুষের কথা ভেবে আপনারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন, অন্যান্য ডাক্তারদের পাশে এসে দাঁড়ান, এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিন।

মনে রাখবেন, এই জাতি বীরের জাতি,দেশ প্রেম অমরদের আদর্শ, আর বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠ অমরদের জন্মভূমি। দায়িত্ব আর কর্তব্য অবহেলা কারিকে সৃষ্টি কর্তাও পছন্দ করে না।

অনেক অনেক দোয়া আর সম্মান রইলো সে সব ডাক্তারদের যারা দেশকে বাচাঁতে এগিয়ে এসেছে। আপনাদের এই ঋন কোন কিছুর বিনিময় শোধ করা যাবে না। স্যালুট এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দান কারি মহান ডাক্তারদের।

জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ ব্লাড ডোনেট গ্রুপ।

শেয়ার করুন