হাল্লা রাজার দেশে কি আমরা বাস করছি?

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমরা কি এখন হাল্লা রাজার দেশে বাস করছি,দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় ‍এমন প্রশ্ন করলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। তিনি বললেন, এখন কথা বলতে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশি শঙ্কা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হচ্ছে কি না। সত্যজিৎ রায়ের গুপী গাইন বাঘা বাইন-এর হাল্লা রাজা দেশের মানুষের জিব কেটে দিয়েছিলেন যাতে তারা কথা বলতে না পারে। আমরা কি এখন হাল্লা রাজার দেশে বাস করছি?

আজ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনারে সুলতানা কামাল এ কথা বলেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ সেমিনারের আয়োজনকরে।

বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সুলতানা কামাল বলেন, অভিজিৎরা  নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। আর এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র আশ্চর্যজনকভাবে নিশ্চুপ। ব্লগারদের প্রসঙ্গে পাল্টা কথা শুনতে হচ্ছে। আপনাদেরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল।

সুলতানা কামাল প্রশ্ন তুলে বলেন, ধর্মবিশ্বাস মানে যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। মানুষ মানুষকে কেন তার জন্য হত্যা করবে? যে সরকার নিজেকে গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে দাবি করে, সেই সরকারের আমলে এগুলো শোভা পায় না।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজনকে মেরে ফেলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গণপিটুনিতে মানুষের মৃত্যু হলে মনে হয় যেন কারও কোনো দায় থাকে না। এ ধরনের ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনতে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

গণপিটুনিতে মানুষকে কেন মেরে ফেলা হচ্ছে তার কারণ হিসেবে মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অসংগতি, ঘাটতি, আইনের শাসনের অভাব, আইনের সাহায্য নিতে হয়রানি, বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতায় মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে গেছে। মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা বলেন তিনি।

সেমিনার মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মতন্ত্র ও মানবাধিকার: এ সময়ের বাংলাদেশ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পড়ে শোনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক রোকেয়া চৌধুরী।

আলোচনায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ডি ওয়াটকিনস মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, অপহরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং নারী নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কাজী রিয়াজুল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ধর্মের নামে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট করতে একটি দুষ্টচক্র মানুষ হত্যা করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিনা অপরাধে কয়েকজন ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। এই দুষ্টচক্রের দাঁত ভেঙে দিতে হবে।

সেমিনারে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহযোগী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীন আলোচনায় অংশ নেন।

শেয়ার করুন