হাতকড়া লাগিয়ে মাদকাসক্তের চিকিৎসা!

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়াই তিন বছর ধরে আসক্তদের চিকিৎসার নামে নির্যাতন করে আসছে রাজধানীর দক্ষিণখানের গাওয়াইর প্রেমবাগান এলাকায়  ইউটার্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে।  প্রমাণীত হওয়ায় কেন্দ্রটি সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে কেন্দ্র্রের স্বত্বাধিকারী মো. গিয়াস উদ্দিনকে নয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, ইউটার্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লাইসেন্স ছাড়াই ২০১২ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। দালাল চক্রের মাধ্যমে  নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগীদের হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনও ধরনের  চিকিৎসা ছাড়াই অভিভাবকদের কাছ  থেকে প্রতি মাসে লাখটাকা পর্যন্ত  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও জানান, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্ত ছাড়াও পারিবারিক কলহের কারণে কিছু সংখ্যক লোককে প্রতারণা মাধ্যমে নজরবন্দি করে রাখা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিনকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কোন নার্স বা চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, ডাক্তার খাইরুল ইসলাম নামে একজন চিকিৎসক সপ্তাহে চার দিন চিকিৎসা করান। এরপর ওই চিকিৎসকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রতিমাসে একবার ওই নিরাময় কেন্দ্রে এসে নির্ধারিত কয়েকজন মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসা করাই।

রোগীদের বরাত দিয়ে মুফতি মাহমুদ জানান, অভিযানের সময় রোগীরা ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা করেছেন। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সমস্ত শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বরং অপরাধের জন্য ক্ষমা চান। এ সব অপরাধের কারণে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক গিয়াস উদ্দিনকে নয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই অপরাধের কারণে তার ম্যানেজার মো. নাসির উদ্দিনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

নিরাময় কেন্দ্রে  চিকিৎসধীন রোগীদের অভিভাবকের  কাছে আইন অনুযায়ী হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন