স্বীকৃতি নিয়ে মরতে চাই.!

প্রকাশিত

মানিক মুনতাসির : গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাসছে। হতবিহবল মাকে কেউ একজন ধরে রেখেেছেন। অশ্রুসিক্ত চোখ দুটি মৃত সন্তানের দিকে তাক করা। সন্তানের নিথর দেহ ট্রলিতে রাখা। ছবিটি ঢাকা মেডিক্যালের। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মা তার সন্তানকে মধ্যরাতে নিয়ে আসেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু জরুরি বিভাগে কোন চিকিৎসক না থাকায় সকালে শিশুটি শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যায়। তার করোনাভাইরাস ছিল কিনা- সেটা হয়তো জানাই হবে না। একবার ভাবুন তো নীতি নির্ধারকরা ঐ মা’টি আপনার মা, বোন কিংবা স্ত্রী আর শিশু আপনার সন্তান, ভাই, কিংবা ভাগ্নে ।

গত শনি -মঙ্গলবার ঢামেকের করোনা ইউনিটে মারা গেছে ২৪ জন যাদের সবার মধ্যেই কোভিড-১৯ এর উপসর্গ ছিল। কিন্তু আজ নিয়মিত ব্রিফিং-এ স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে গত ২৪ ঘন্টায় ১ জন মারা গেছে। আর সনাক্ত হয়েছে ৭৮৬ জন। এর আগের ২৪ ঘন্টায় সনাক্ত ছিল ৬৮৮ জন। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় বেড়েছে ৯৮ জন। তবে আশার কথা হচ্ছে প্রতিদিন সুস্থ হওয়াদের তালিকা বেশ বড় হচ্ছে।

এদিকে সাভারে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ জনের। এরমধ্যে ২০ জনই গার্মেন্টস শ্রমিক। আমি ঠিক জানি না এই তথ্যটা .বিজিএমইএর কর্তারা জানেন কিনা-। নারায়নগঞ্জের অবস্থা তো সবার জানা।

আর দেশের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে পুলিশে মোট আক্রান্ত সদস্যের সংখ্যা দাড়াল ১১৫৩ জনে। আর এ পর্যন্ত মহামারি এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ পুলিশ সদস্য। কদিন আগে পিজি হাসপাতালে করোনা টেস্ট করতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় হাসপাতালের অদূরে রাস্তায় পড়ে মারা যান এক বৃদ্ধ। তিনি আক্রান্ত ছিলেন কিনা-জানি না। জানার সুযোগও হয়নি। আল্লাহ তুমি এমন মৃত্যু দিও না । আমীন।

এখন পর্যন্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ১ হাজারের বেশি আক্রান্ত। সাংবাদিক আক্রান্ত অর্ধশত। মারা গেছেন একজন।

ক;দিন থেকে খুব জানতে ইচ্ছে করছে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানাগুলোর অবস্থা। একই সাথে প্রতিবন্ধীদের কথা। তাদের জন্য কি কোন সেফটি মেজারস আমরা নিতে পেরেছি। বাক, শ্রবণ কিংবা অন্য যে কোন প্রতিবন্ধীরা যদি কোনভাবে আক্রান্ত হলে তো ঠিক মতো বলতেও পারবেন না। ফলে আসুন পরিস্থিতিত মোকাবেলার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সহায়তা চাই ।

দরিদ্র দেশ নাইজেরিয়া তাদের অর্থনীতির ধস ঠেকাতে লকডাউন শিথিল করেছিল। সোমবার নাইজেরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) মোট ২৪৫ টি নতুন করোনা সংক্রমণের মামলা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে ৭৩ টি দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী লোগোসে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ২ হাজার ৮৮০ টিতে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে ৯৩ জন মারা গেছে এবং ৪১৭ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চার সপ্তাহের বেশি লকডাউন চলার পর সরকার আবুজা, ওগুন ও লাগোস রাজ্যে নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করার ঘোষণা দেয়। এর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই দেশটিতে সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে।

প্রায় একই রকম অবস্থা আমাদের এথানেও। সাধারণ ছুটি চলকালেও দ্রুত গতিতে বাড়ছে সংক্রমনের হার । আবার ১০ মে থেকে খুলতে যাচ্ছে শপিং মল । আহারে মৃত্যুর প্রহর গুনবো সাথে শপিংও করবো । দারুণ না ব্যাপারটা। অবশ্য মল তো খোলা লাগবেই শপিং তো করতেই হবে। তাই না। ধরুন আমি মারা গেলাম। আমাকে দাফন করতে কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, বাশ, খাটিয়া অন্যান্য তো লাগবে । তো সেগুলাে কিনতে হবে না। আবার তিনদিন পর আমার জন্য দোয়া করা হবে। সেটার জন্য কিছূ মানুষকে খাওয়াতে হবে। তার জন্য কিছু কেনাকাটা তো করতে হবে। তো মল, দোকান, বাজার যদি খোলাই না থাকে তাহলে এসব কিনবেন কোথা থেকে । ফলে কোন সমালোচনা নয়। আসুন নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করে থাকি আর ভাবি-এই মুহুর্তে পুরো জাতিই কোভিড-১৯ নেগেটিভ। কিংবা ফুল প্রিজারভেটিভ দেয়া। আমরা তো অনেক শক্তিশালী। তাই না -নিশ্চই শক্তিশালী।
০৫.০৫.২০২০। রাত-৮.১০ মিনিট ।

লেখক : সাংবাদিক, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

শেয়ার করুন