সিংগাইরে “স” মিলের স্তুপকৃত কাঠের বৈধতা নিয়ে নানা প্রশ্ন!

প্রকাশিত

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে স্থাপিত খান জাহান আলী টিম্বার অ্যান্ড স’মিলের মজুদকৃত কাঠ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাতের অন্ধকারে ট্রাকযোগে আসছে বিপুল পরিমাণ কাঠের চালান। আবার দ্রæতই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে মজুদকৃত ওই কাঠগুলো। দেখার যেন কেউ নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন জনৈক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মালিকানাধীন মেকাটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ, গোল্ডেন উড ফার্ণিচার ও খান জাহান আলী টিম্বার অ্যান্ড স’মিল নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। গত ৮-১০ বছর আগে তিনি এগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান, পরিবেশ ও ফসলি জমিতে লোকজনের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলেও কোনো ফল পাননি। ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি জাতীয়ভাবে বৃক্ষ নিধণের অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। বিগত সময়ে চুপিসারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চেরাই করা কাঠ সংগ্রহ করলেও এবার দৃশ্যমান হয়েছে কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড। চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৫ দিনে বিপুল পরিমান কাঠের চালান দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন হানিফ এন্টারপ্রাইজের অব্যবহ্নত জায়গায় বিপুল পরিমাণ কাঠের গুড়িগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত থাকায় সড়কটির বেশ কিছু অংশ জুড়েও রাখা হয়েছে কাঠের গুড়ি।

স্থানীয়রা জানান, সংগ্রহ করা এ কাঠগুলো রাতেই আনা হয় আবার সুযোগ বুঝে সরিয়ে ফেলা হয়। তারা দ্রæত এ কাঠের বৈধতা যাচাইসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

ওই কাঠের দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠগুলো এখানে আনা হয়। এখান থেকে চেরাই করা কাঠ বিদ্যুৎ লাইনের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। কাঠের বৈধতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, এটা মালিকপক্ষ জানেন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নওরোজ আলম টিটু বলেন, আমরা টেন্ডার পেয়ে পল্লী বিদ্যুতের কাজ করছি। যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পার্টির মাধ্যমে গাছগুলো ক্রয় করা হয়। কাঠগুলো প্রসেসিং করে পল্লী বিদ্যুৎকে দেয়া হয়। সংগৃহিত কাঠগুলোর বৈধ কাগজপত্র আছে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা ফরেষ্টার মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, কাঠগুলো কোথা থেকে এসেছে আমি কিছুই জানি না। ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, এটা আমার নলেজে নেই, আপনার কাছ থেকে জানলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার করুন