সিংগাইরে ভুল চিকিৎসায় পা হারাতে চলেছে স্কুলছাত্র

প্রকাশিত

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামসা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের হৃদয় হোসেন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্র গ্রাম্য ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় পা হারাতে চলেছে। সে ওই গ্রামের প্রবাসী নূর মোহাম্মদের পুত্র ও গোলাইডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র। এ ঘটনায় এলাকারাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরেজমিন ভূক্তভোগী স্কুল ছাত্রের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩০ জুন দুপুরে সেচ কাজে ব্যবহৃত ১০ কেভি ট্রান্সফর্মার চক থেকে বাড়িতে আনতে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালীতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় হৃদয়। তার পরিবার স্থানীয় ব্যারিস্টার আশফাক মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পঙ্গুঁ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা নেয়ার প্রস্তুতিকালে গোলাইডাঙ্গা বাজারের মা ফার্মেসীর মালিক পল্লী চিকিৎসক আল-আমিন হৃদয় হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এ সময় তাকে ব্লেড দিয়ে অপারেশন শেষে প্লাস্টার করে দেন। সেই সঙ্গে নিজস্ব প্যাডে প্রেসক্রিপশনও দেন তিনি। এ দিকে কয়েকদিন যেতেই ক্ষতস্থানে পঁচন ধরে এবং তার পায়ের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। নিরুপায় হয়ে গত ১৩ জুলাই হৃদয়কে সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট সার্জারী ডা. আশরাফুল কবিরের কাছে মানিকগঞ্জ ইউনাইটেড হসপিটালের প্রাইভেট চেম্বারে নেন। ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভূল চিকিৎসার কারণে পুনরায় হৃদয়ের অপারেশনে মোটা অংকের টাকা ব্যয় হয়েছে। তার পরেও ক্ষত স্থানের কাটা রগ ভাল হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ওই ডাক্তার। তিন মাসের মধ্যে রোগীর পায়ের অবস্থা ভালো না হলে উন্নতর চিকিৎসার জন্য ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হবে বলে ডাক্তার আশরাফুল কবির জানিয়েছেন। ভূল চিকিৎসার জন্য হৃদয়ের পরিবার পল্লী চিকিৎসক আল-আমিনের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক আল-আমিন পার্শ্ববর্তী বলধারা ইউনিয়নের উত্তর গোলাইডাঙ্গা গ্রামের নুরউদ্দিন পাদ্রীর পুত্র। স্থানীয় গোলাইডাঙ্গা বাজারে ‘মা ফার্মেসী’ নামে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে তার। মা ফার্মেসীর সাইনবোর্ড ও প্রেসক্রিপশন প্যাডে নিজেকে নামের আগে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে শিশু, মেডিসিন, সার্জারী ও গাইনীতে বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত হিসেবে নিজেকে জাহির করেছেন। অথচ তার প্রশিক্ষণ সনদ তো দূরের কথা ফার্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্সটি পর্যন্ত নেই বলেও জানা গেছে। ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে একাধিক ভূল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে।

ভূক্তভোগী হৃদয় হোসেনের চাচাত ভাই মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের পা ব্লেড দিয়ে অপারেশন ও ভূল চিকিৎসা দিয়ে যে ক্ষতি করেছে বিষয়টি স্থানীয় দু’ ইউপি মেম্বার ও বাজার কমিটিকে জানিয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।

গোলাইডাঙ্গা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন বলেন, আল-আমিন কাজটি অন্যায় করেছে। ওর তো ফার্মেসীতে ওষুধ বিক্রিরই অনুমতি নেই। তারপরও কিভাবে এ ধরনের চিকিৎসা করে আমার জানা নেই। ভূক্তভোগী পক্ষটি আমার কাছে এসেছিল আমি ইউপি মেম্বারের কাছে পাঠিয়েছি।

অভিযুক্ত গ্রাম্য ডাক্তার আল-আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারকে বলা হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয়ভার আমি বহন করবো। বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর সনদ আছে কিনা এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান। এ ছাড়া ড্রাগ লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাহ বলেন, এ ধরনের চিকিৎসা করার এখতিয়ার তার নেই। সে রেফার্ড করার পরামর্শ দিতে পারে। তাছাড়া পায়ের গোড়ালির ওপরে ‘টেনডেন’ একটি গুরুত্বপূর্ন জায়গা। তিন মাসের মধ্যে যদি কাটা স্থান জোড়া না লাগে তাহলে অবস্থার অবনতি হবে। এতে হাঁটা চলায়ও অসুবিধা হবে। এ ধরনের চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন