সাংবাদিকের হাতে তালা, ঘরেও তালা

প্রকাশিত

মানিক মুনতাসির : বিভিন্ন সোস্যাল মাধ্যমে একটি ছবি ভাসছে, যেখানে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের হাত পিঠমোড়া করে বাঁধা। আর তার ছেলে তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছন। অপহরণ হওয়ার পর প্রায় দুই মাস পর তাঁকে বেনাপোল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নাকি ভারত থেকে নিজ থেকে পুশইন (অনুপ্রবেশ) করেছেন। আজ দিনটি ছিল ‍”বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস” সত্যিই সেলুকাস। তিনি নিজ দেশে অনুপ্রবেশ করেছেন এটা একটা হাস্যকর অভিযোগও বটে। তাও ভাল তাঁকে যে অবস্থায়ই হোক জীবিতই পাওয়া গেছে। এটা কম কিসের। তাঁকে পাওয়া গেছে, ভাল কথা তিনি তো এটলিষ্ট চাল চোর নন। ত্রাণ চোরও নন। তাহলে হাতে হ্যান্ডকাপ কেন। অথচ যারা টনকে টন ত্রাণের চাল চুরি করেছেন তাদের হাতে কি হ্যান্ডকাপ (হাতকড়া, তালা) পরিয়েছেন ?

তাও ভাল কাজলকে সীমান্তের এপারেই পাওয়া গেছে। যদি তাকে ভারতের ওপারে পাওয়া যেত? তাহলে হয়তো সে দেশের জেলে পচতে হতো। অবশ্য এর চেয়ে বড় বিষয় হলো কাজল অপহৃত হওয়ার পর তার নামে আইসিটি আইনে একটি মামলা হয়েছিল। আজ তাকে সে মামলাতেই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এজন্য তিনি জামিনও পাননি। এটাই তো “মুক্ত গণমাধ্যম দিবস” এর বড় উপহার। কেননা তার লাশ উদ্ধার হলেও তো তেমন কিছু হত না্। যেহেতু তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। কতজনই তো এভাবে হারিয়ে গেছেন। সাগর-রুনির তো সবচেয়ে বড় উদাহরণ ।

আজকের আরেকটি বিষয় খুবই হতাশার। রেডিও আমারের একজন সংবাদকর্মী (নাজমুল হুদা) কোভিড-১৯ পজিটিভ সনাক্ত হয়ে নিজ (ভাড়া) বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। কিন্তু সেই বাড়ির মালিক আর এলাকাবাসী তার ও তার পরিবারে সাথে কি অমানবিকতাটাই না করেছেন সারাটা দিন। ঘর থেকে বেরুতে দেননি নাজমুলের কোন ভাই-মা, বোনকে। অথচ তারা কিন্তু সুস্থ। তাদের ফ্ল‌্যাটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন স্বয়ং বাড়িওয়ালা। আহা! কতটা বীরপুরুষ সেই বাড়িওয়ালা। এটার জন্য ৯৯৯ এ ফোন করেও কোন সুরাহা হয়নি। অবশেষে স্থানীর থানার ওসির হস্তক্ষেপে তালা খোলা হয়েছে। এই হচ্ছে আমাদের মানবিকতা।

আমাদের দেশের কোরোনা আক্রান্তের সংখ‌্যা নয় হাজার ছাড়িয়েছে। তবে আশার খবর হচ্ছে সূস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়েছে। যদিও এটার মধ্যে একটা কৌশল রয়েছে।

আমার এক ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই নয়া দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার । করোনার লক্ষণ নিয়ে গত রাতে হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি হয়েছেন। তার দেয়া তথ্য মতে মধ্যরাতে ভর্তি হলেও পরদিন দুপুর দুটা পর্যন্তও তার জ্বরটা পর্যন্ত মাপা হয়নি। শ্বাসকষ্ট থাকায় শুধুমাত্র অক্সিজেন মাস্কটা লাগিয়ে দিয়ে গেছেন নার্সরা। নিশ্চই এটাও বেশি পাওয়া। অক্সিজেন মাস্ক না দিলে তিনি তো মারাও যেতে পারতেন শ্বাসকষ্টে। আমরা তখন রিপোর্ট লিখতাম করোনা উপসর্গ নিয়ে সাংবাদিকের মৃত্যু ।

যাক সেটা লিখতে হয়নি এই রাষ্ট্রের কল্যাণে । কারণ তিনি তো অক্সিজেন টা অন্তত পেয়েছেন। কথায় কথায় কানাডা, সিংগাপুর আর আমেরিকার উদাহরণ দেব। কিন্তু চাল চুরি ছাড়বো না। ত্রাণ চুরি ছাড়বাো না । এটাই তো বাস্তবতা!

০২. মে -২০২০ । রাত ৮.৪৫ মিনিট ।

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ।

শেয়ার করুন