সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ঢাকায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরণের সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা হারে বেড়েছে। বাড়তে বাড়তে একশ টাকা পর্যন্ত উঠেছে প্রতি কেজি বেগুনের দাম। গাজর পৌছে গেছে ১২০ টাকায়। একশ টাকার আশপাশে রয়েছে বরবটি, কচুর ছড়া আর টমেটোর কেজি। বর্ষাকালীন সস্তা সবজি হিসেবে পরিচিত পেপের কেজিও ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কমের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে কেবল আলু, প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩২ টাকা। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঢাকায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে লাল ও সবুজ বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। রোজার শুরুতেও বেগুনের কেজি একশ টাকা ছুঁয়েছিল। তবে ঈদের পর কয়েক দফা দাম কমে বেগুনের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে চলে আসে। একশ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আর এক সবজি গাজর। করোনার শুরুতে গাজরের কেজি ছিল ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। এমনকি রোজার মধ্যেও গাজরের কেজি ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু ঈদের পর থেকেই গাজরের দাম বাড়তে থাকে। কয়েক দফা দাম বেড়ে এখন গাজরের কেজি মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ঢেঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, কাকরোল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর ছড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরলতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাঁচা কলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। শসা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, লেবুর হালি ২৫ থেকে ৪৫ টাকা। করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধনিয়া পাতা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকাদরে। প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৬০, জালি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকা।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের পর প্রথম দিকে সবজি চাহিদা কম ছিল। তবে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি তুলে নেয়ার পর থেকেই সবজির দাম বাড়তে থাকে। কয়েক দফা দাম বেড়ে এখন বেশিরভাগ সবজির কেজি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মহামারি করোনার প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এ সময় সবজির চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। তবে সাধারণ ছুটি তুলে নেয়ার পর ঢাকায় লোকসমাগম এবং সবজির চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এসব কারণেই সবজির দাম বেড়েছে বলে জানান তারা।

সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে মাছ, মুরগি, গরু ও খাসির গোশতে। বয়লার মুরগির কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। গরুর গোশতের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে। খাসির গোশতের কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৫০০ টাকা। নলা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৭০, পাঙ্গাশ ১৪০ থেকে ১৮০, শিং ৩০০ থেকে ৪৫০, শোল মাছ ৪০০ থেকে ৭৫০, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০, টেংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বর্ষার শুরুতে দাম কিছুটা বেড়েছে চালেরও। আটা-ময়দা আগের দামে বিক্রি হলেও মসুর ডালের দাম কিছুটা বাড়তি। বিক্রেতারা জানান, কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে এক সপ্তাহে। মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা কেজিদরে। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। যদিও কিছুদিন আগে নতুন ধান উঠেছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চালের দাম আরেক দফা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

কিছুটা বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল। আদার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। হাসের ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা এবং ফার্মের মুরগির ডিম ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

শেয়ার করুন