শেয়ারবাজারের জন্য বাজেটে দেয়া হয়েছে একগুচ্ছ প্রস্তাব

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দেশের দুই শেয়ারবাজারের জন্য গতকালের বাজেট বক্তৃতায় একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করার জন্য উৎসে করে সমন্বয় করার ঘোষনা। এছাড়া বন্ডের সুদ ও বাট্টার ওপর উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিল করে সুদ ও বাট্টা পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রস্তাব করা হয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ২.৫০ শতাংশ কর কমানোর।

‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামে গতকাল বৃহস্পতিাবর জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট বিকাশের জন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এর আলোকে বন্ড লেনদেন মূল্যের ওপর উৎসে কর কর্তনের পরিবর্তে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক লেনদেনে নির্ধারিত কমিশনের ওপর উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্ডের সুদ ও বাট্টার ওপর উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিল করে সুদ ও বাট্টা পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করছি। এতে শেয়ারবাজারে বন্ডের লেনদেন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, কোনো কোনো করদাতার রিটার্ন দাখিলে অজ্ঞতার কারণে তাদের কিছু অর্জিত সম্পদ প্রদর্শনে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। এ অবস্থায় করদাতাদের আয়কর রিটার্নের ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ প্রদান এবং অর্থনীতির মূল গ্রোতে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি আয়কর অধ্যাদেশে দুটি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করছি।

প্রথমত, দেশের প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে, আয়কর কর্তৃপক্ষসহ কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, শেয়ারবাজারকে গতিশীল করার জন্য তিন বছর লক-ইনসহ কতিপয় শর্তসাপেক্ষে আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বিনিয়োগ করলে এবং বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করলে, আয়কর কর্তৃপক্ষসহ কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন না।

অনিবন্ধিত কোম্পানির করহার কমানো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ব্যাংক, লিজিং, বীমাসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানি ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২৫ শতাংশ। আর তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর হার ৩৫ শতাংশ। করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ কোম্পানিগুলোর করহার ২.৫০ শতাংশ কমিয়ে ৩২.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

শেয়ার করুন