শৃঙ্খলা ফেরাতে চাপে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো

প্রকাশিত

ডেস্ক প্রতিবেদন : শৃঙ্খলা ফেরাতে চাপে পড়েছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। নিয়োগ পাওয়া পর্যবেক্ষকরা ঋণ, আমানত সংগ্রহ ও বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে চাপ দিচ্ছেন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও কৃষি ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ঘুনে ধরা অবস্থান থেকে শৃঙ্খলায় ফেরাতে কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনোভাবেই আর ছাড় দেয়া হবে না। আর এতে সরকারের সায় রয়েছে কেন্দ্র্রীয় ব্যাংকের প্রতি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা চাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ভালোভাবে চলুক। তারা ঋণ বিতরণ ও আমানত সংগ্রহে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করুক। সেটি নিশ্চিত করতেই পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছে। তারা এটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করতেই পারে।

জানা গেছে, অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলায় আবারো বিপদের দিকে যাচ্ছিল সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। বিপুল হারে বেড়ে যাচ্ছিল এর খেলাপি ঋণ। তাছাড়া ঋণ অনুমোদনে পর্ষদে কিছু অনিয়মের তথ্যও পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গোয়েন্দা দল। তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয। এই সব অভিযোগের কারণে গত ১৮ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নওশাদ আলী চৌধুরীকে সোনালী ব্যাংকে, আহমেদ জামালকে জনতা, রূপালী ব্যাংকে আব্দুর রহিম এবং অগ্রণী ব্যাংকে নির্মল চন্দ্র ভক্তকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির ক্ষমতা বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিতে পারে।

ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীসহ ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনাকে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বুধবার বলেন, পর্যবেক্ষক আমাদের ঊর্ধ্বতনদের বলেছেন- ‘ঋণ বিতরণ ও অনুমোদনে শৃঙ্খলা আনতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল কার্যক্রম প্রশ্রয় দেয়া হবে না’।

জানা যায়, আইন মোতাবেক ব্যাংকের আর্থিক সূচক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে পর্যবেক্ষকরা এবং ব্যাংকের পর্ষদ সভায় অংশ নেবেন তারা।

বুধবার কথা হয় একজন পর্যবেক্ষকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো শৃঙ্খলাতে আসুক। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। তবে কোনো চাপ নয়। এতে যদি ব্যাংকগুলো চাপ বোধ করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই’।

শেয়ার করুন