শরীয়তপুরের দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত

প্রকাশিত

আদালত প্রতিবেদক : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শরীয়তপুরের মো. সোলায়মান মোল্লা (৮৪) ও ইদ্রিস আলী সরদার (৬৭) এর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তদন্ত সংস্থা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ও সানাউল হক তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সিজার লিস্টের তিনজনসহ মোট ২৮ সাক্ষী রয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তদন্ত শেষ করেন কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন।  প্রতিবেদনে সাত খণ্ডে আটশ’ ৫১ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে দাখিল করা হবে।

আব্দুল হান্নান খান ও সানাউল হক জানায়, আসামি সোলায়মান মোল্লা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদেরকে সাহায্য করার জন্য শান্তি কমিটি এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করে। এরপর স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শরীয়তপুরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ সব ধরণের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। সোলায়মান মোল্লা ১৯৬৩ সালের পর মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে শরীয়তপুর জেলার পালং থানার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

অপর আসামি গাজী ইদ্রিস আলীও একই ধরণের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামি ছাত্র সংঘের’ নেতা ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ইদ্রিস ইসলামি ছাত্র সংঘের সক্রিয়কর্মী ছিলেন। গত ১৫ জুন সোলায়মান মোল্লাকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়। অপর আসামি ইদ্রিস আলী পলাতক রয়েছেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সানাউল হক।অভিযোগগুলো হলো-

১ নাম্বার অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২২ মে, আসামিরা পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর একশ’ থেকে দেড়শজন সদস্যসহ শরীয়তপুর জেলার পালং থানা এলাকায় কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কৃষক আব্দুস সামাদসহ প্রায় দুইশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে গুলি করে হত্যা করে ও বাড়ির মালামাল লুট করে।

২ নাম্বার অভিযোগ: ২৬ মে, ১৯৭১ সালে জেলার পালং থানার মালোপাড়া ও রুদ্রকর গ্রামে হামলা চালিয়ে মঠের পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা ও গ্রামগুলো থেকে মামালাল লুট ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মালোপাড়া থেকে ৩০/৪৫ জন মহিলা ও পুরুষকে ধরে মাদারীপুর পাকিস্তান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে ৩ দিন আটকে রেখে মহিলাদের ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে।

৩ নাম্বার অভিযোগ: জুন মাসে একই থানার শৈনেন্দ্র কৃষ্ণ পালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করে ও হিন্দু সম্প্রদায়েরর মানুষদের নির্যাতন করে হত্যা।

৪ নাম্বার অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিরা দখলদার বাহিনীর সহায়তায় এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নিযাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ করে। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতংকের সৃষ্টি করে পালং থানার এক থেকে দেড় হাজার মানুষকে দেশ ত্যাগ করে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য করে।

শেয়ার করুন