রাজাবাজারে লকডাউন; প্রথম সকাল

প্রকাশিত

আমিন আল রশীদ : দুদিন ধরেই তোড়জোর। মাইকিং। পূর্ব রাজাবাজার এলাকা রেড জোন। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে লকডাউন। চার তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে এসব দৃশ্য দেখি।

কার্যত ১৮ মার্চ থেকেই আমরা গৃহবন্দি। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই আড়াই মাসে বাসার বাইরে বের হইনি। অফিসও অনলাইনে, বাসায় বসে। এরইমধ্যে আবার টানা দুই তিন সপ্তাহের লকডাউন।

আগের আড়াই মাস ছিল সাধারণ ছুটি। ফলে অধিকাংশ মানুষই গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরেছেন। অনেকে রাস্তায় বেরোলেও মাস্ক পরেননি। শারীরিক দূরত্ব বহু পরের কথা। ফলে কর্তৃপক্ষ বলছে এবার সত্যিই লকডাউন। প্রস্তুতি দেখে তা-ই মনে হচ্ছিলো।

১০ জুন বুধবার সকাল। ঘুম ভাঙলো মূলত উচ্চস্বরের মাইকিংয়ে। কারণ রাজধানীর ফার্মগেট-পান্থপথ সংলগ্ন এই পূর্ব রাজাবাজার এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করে একটিমাত্র বেরোনোর পথ রাখা হয়েছে গ্রিন সুপার মার্কেট ও আইবিএ হোস্টেলের পাশ দিয়ে। আমাদের বাসাও ঠিক এখানেই। ফলে মাইকের শব্দ বেশ ভালোভাবেই ঘরে প্রবেশ করে। বারবারই বলা হচ্ছে, চিকিৎসক-নার্স-সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক ছাড়া কেউ বের হতে পারবেন না।

বারান্দার এসে দাঁড়াই। বাড়ির সঙ্গেই একটা বড় নিম গাছ। সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে রাস্তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড, মানুষের চলাচল, হুস করে রিকশার ছুটে চলা—সবই দৃশ্যমান। পরিপাটি পোশাক পরে বেশ কিছু লোককে দেখা যাচ্ছে তারা হেঁটে যাচ্ছেন। বোঝাই যাচ্ছে এই মানুষগুলো অফিসগামী। কিন্তু সবাই চিকিৎসক-নার্স-সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নন। ফলে প্রবেশ ও বহির্গমনস্থল, যেখানে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে এবং যেখানে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের লোকজন রয়েছেন, সেখানে একটা বড় জটলা তৈরি হয়। বারবার মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট ওই দু তিনটি পেশার লোক ছাড়া কেউই বের হতে পারবেন না এবং নির্দেশ না মানলে জেল-জরিমানারও হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।

(চলবে…)

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।

শেয়ার করুন