রফতানিতে পাটের বাম্পার সাফল্য

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : করোনার কারণে রফতানি বাণিজ্যে গত এপ্রিল মাসে সৃষ্ট ক্ষত মে মাসে এসে অনেকটাই কেটেছে। চলতি অর্থবছরের মে মাসে ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং এবারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম হলেও আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে রফতানি আয় বেড়েছে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন গুণে। ওই মাসে রফতানি হয়েছিল মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য।

এদিকে দেশের রফতানি বাণিজ্যে বাম্পার সাফল্য দেখিয়েছে পাটখাত। করোনা সংকটের মধ্যেও দেশে পাটপণ্য রফতানি আয়ে এসেছে সুখবর। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের মে) লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও পাটপণ্য রফতানি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, এই ১১ মাসে রফতানি আয় আগের পুরো অর্থবছরের আয়কে ছাড়িয়ে গেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাটপণ্য থেকে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে জুলাই থেকে মে পর্যন্ত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় ছিল ৮১ কোটি ৬২ লাখ ডলার। আর ওই অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত পাটপণ্যে রফতানি আয় হয়েছিল ৭৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মে মাসে দেশের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ সময় আয় হয় মাত্র ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মে মাসের চেয়ে এই আয় ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ৬৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের এই সময় আয় ছিল ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুন থেকে মে মাস পর্যন্ত গত ১১ মাসে রফতানি কম হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ। এই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ২৫.৫ শতাংশ। এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৫৫ কোটি ডলার। রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৯৫ কোটি ডলারের পণ্য। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার।

গত ১১ মাসে তৈরি পোশাকের রফতানি কমেছে ১৯ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ উল্লেখ করে ইপিবি জানায়, মোট ২ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি ডলার। টেরিটাওয়েলসহ পোশাক খাতের সমজাতীয় পণ্য মিলে মোট রফতানিতে পোশাক খাতের অবদান ৮৬ শতাংশ। এ খাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে মে মাসে ওভেন ও নিট খাতে পোশাক রফতানি কমেছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও।

এসময়ে অন্যান্য বড় পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ২১ শতাংশের বেশি। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২৬ শতাংশ। রফতানি হয়েছে মাত্র ৭৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের পণ্য। গত বছরের এই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। চিংড়িসহ হিমায়িত মাছের রফতানি কম হয়েছে ১০ শতাংশ। রফতানি হয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য। বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্যের রফতানি কম হয়েছে ৮ শতাংশের বেশি। ৭৮ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রফতানি হয়েছে গত ১১ মাসে।

শেয়ার করুন