মেজর সিনহা আর টিকটক অপু!

প্রকাশিত

মানিক মুনতাসির : তুমি যদি কোন জাতিকে ধংব্স করতে চাও তাহলে সে জাতির ভেতরে সংস্কৃতিটাকে আক্রমন কর। অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দাও। টার্গেট কর কিশোর কিংবা যুবক শ্রেণীকে । ব্যাস কাজ হয়ে যাবে । এই কথাগুলো হয়তো অনেক জায়গায় আপনি পড়েছেন কিংব শুনেছেন। কিন্তু আমলে নেন নি কখনোই।

এজন্যই হয়তো অপু আর মামুনের মত কিশোররা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য কোন এক মোহে পড়েছে কিংবা কোন ফাঁদে পা দিয়েছে। আবার এই অপুদের পাতা ফাঁদে পড়েছে দেশের অসংখ্যা শিশু কিশোর। সস্তা ইন্টারনেট, সহজলভ্য স্মার্টফোনের কারণে পুরো জাতিই আজ প্রযুক্তির অপব্যবহারে মগ্ন।

অফিসের টেবিল, স্কুলের ক্লাসরুম, শোবার বিছানা, খাবার টেবিল এমন কি বাথরুম সব জায়গার নিত্যসঙ্গী ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্টফোন। আর এর মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়া অপসংস্কৃতির ছোবলে ধংবসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে এদের কুরুচিপূর্ন দাপট জাতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটা হয়তো আর কয়েক বছর পর বুঝতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। আর তখন মাথা ঠুকে আফসোস করা ছাড়া অন্য কোন উপায়ই থাকবে না।

অন্যদিকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড মানুষকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করছে এটা হয়তো এখন আমলে নিচ্ছেন না নীতি নির্ধারকরা। সময় আসলে কি হবে-সেটা হয়তো এখন বলা যাবে না। এখন শুধু এটুকুই বলা যায়- মন চাইল আর গুলি করে মেরে দিলেন । হোক না সে অপরাধী। তাহলে আদালতের দরকারটা কি? এভাবে আর যাই হোক সাময়িক অপরাধ দমন হতে পারে। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ন্যায় বিচার তো আঁধারেই হাতড়ে বেড়াবে। কক্সবাজারের (টেকনাফের) পৌর কাউন্সিলর একরাম হত্যার সুরাহা হয়নি বলেই কি মেজর (অব.) সিনহা হত্যা ?

দুটো বিষয়কে আমি একত্রে মিলালাম শুধু একটি কারণে আর সেটা হলো -দুটোই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভুল পথ দেখাচ্ছে৷ যার মাসুল দিতে হতে পারে অনেক চড়া।

শেয়ার করুন