মরদেহ দাফনের পর বেকায়দায় স্কাউটরা

প্রকাশিত

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত মাহবুব আলমের মরদেহ দাফন করে বেকায়দায় পড়েছেন ৪ রোভার স্কাউট সদস্য।

মৃত মাহবুব আলম নওগাঁ শহরের জনকল্যান পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ঢাকা থেকে জ্বর ও শ্বাসকস্ট নিয়ে গত ১৫ তারিখ রাতে নওগাঁয় আসে। পরে ১৬ তারিখ করোনা পরীক্ষার জন্য তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই দিন রাতেই মারা যান তিনি।

শুক্রবার দুপুরে নওগাঁ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে সুরক্ষা পোশাক ছাড়াই মাহবুব আলমের লাশ দাফন করে স্কাউট সদস্যরা। এর পর থেকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদেরকে বাড়িতে এমনকি মহল্লায় পর্যন্ত ঢুকতে দিচ্ছেন না।

স্কাউটদের মধ্যে একজন জানান, জানাজা শেষে মৃতদেহ দাফনে ভয় পাচ্ছিলো ইসলামী ফাউন্ডেশনের লোকজন। কবরস্থান এলাকায় মৃতদেহ রেখে তারা বেশ খানিকটা দূরে দাড়িয়ে ছিলেন। এমনকি দাফনের সময়ও কাছে আসেনি তারা। পরে স্কাউট সদস্যরা নিজ দ্বায়িত্বে মরদেহ দাফনের কাজ করেন। এসময় তাদের শরীরে পিপিই ছিলো না। শুধু মাস্ক ও হাতে গ্লাপস পরে লাশ দাফন করেছেন তারা।

এদিকে পিপিই ছাড়াই মৃতদেহ দাফনের খবর মূহুর্তেই ছড়িয়ে পরে এলাকায়। বিকেলে স্কাউটরা পরিবারে ফিরতে চাইলে পাড়ায় ঢুকতে দেয় নি এলাকাবাসী। এমনকি পরিবারের লোকজন বাড়িতে আসতে বাধা দেয়।

জেলা দাফন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্বারি মোয়াজ্জেম আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দাফনের সময় ইফার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত ৫ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্কাউট সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন মাত্র। তবে পিপিই ছাড়া মরদেহ কবরে নামাতে দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনা জানতে পেয়ে স্কাউট সদস্যদেরকে নিরাপদে একটি ঘরে রাখা হয়েছে। মৃত ব্যাক্তির নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট আসলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য দাফন কমিটিকে আরো সতর্ক হতে বলা হয়েছে জানান ডিসি।

শেয়ার করুন