ভাগ্যিস সেদিন রিজেন্টে যাই নি !

প্রকাশিত

মানিক মুনতাসির : আমি তখন কোভিড-১৯ পজিটিভ। ১৭ মে-২০২০ থেকে ২২ মে পর্যন্ত তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগেছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে ২৯ মে আমি সুস্থতা হয়ে করোনা নেগেটিভ হই। আলহামদুলিল্লাহ । বেঁচে আছি। ভাল আছি।

এবার কাহিনীটা বলি-১৮ -মে সকাল ১১ টার দিকে বেশ শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমার প্রফেশনের দু,একজনকে ফোন করে অক্সিজেন সিলিন্ডার পেতে সহাতয়া চাই। মাইনুল হাসান সোহেল, আবু আলী, মসিউর রহমান, রাশেদুল ইসলাম এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহায়তা করেন। যাই হোক -সেদিন এরইমধ্যে এক বড় ভাই ফোন করেন। খোঁজ খবর নিতে। আমি তাকে জানাই, ভাল আছি। তবে কিছূটা শ্বাসকষ্ট আছে। তিনি সরল বিশ্বাসে আমাকে সাহেদের সাথে (রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক) যোগাযোগ করতে বলেন। আমি বলি নম্বর নাই। তিনি সেটা দেন। এবং আমি যোগাযোগ করি । তার পারসোনাল নম্বরে ফোন করলে তিনি ধরেননি প্রথমবার । দ্বিতীয়বার ধরেন, আমি আমার পেশাগত পরিচয় দিলে তিনি আমার সাথে বেশ ভাল ব্যবহার করেন । আমি একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা হবে নাকি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন ক্রাইসিস, তারপরও আপনাকে ম্যানেজ করে দেব। কিন্তু টাকা হয়তো একটু বেশি লাগতে পারে। কত লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০-৩৫ হাজার তো লাগবেই।

আর হাসপাতালে ভর্তি হলে রিজেন্টে আইসিইউ সুবিধা পেতে পারি কিনা- জানতে চাইলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন। উল্লেখ্য-আমি একজন অ্যাজমা রোগী। এরপর আমি মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করি যে পরদিন অবস্থা খারাপ হলে রিজেন্টেই যাবো। কেননা ইতিমধ্যে সেখােন থেকে চিকিৎসা নিয়ে দু,একজন সাংবাদিক সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। কিন্তু হুমায়ুন কবির খোকন ভাই মারাও গেছেন। আবার খোকন ভাইয়ের স্ত্রী সন্তান সেখানেই সুস্থ হয়েছেন জেনেছি।

যাক গে- আমি পরদিন তাকে না পেয়ে রিজেন্টের হটলাইনে ফোন করে জানতে পারলাম সেখানে আইসিইউ খালি নেই। এমন কি অক্সিজেন সিলিন্ডারের সরবরাহেও সংকট রয়েছে। এছড়া সাধারণ বেডও খালি নাই। আবার জানলাম তাদের আসলে বেড অল্প কয়টা। তারা টেস্টকেই গুরুত্ব দেন। ডাক্তারও কম। স্টাফ আরো কম। এজন্য আর আগ্রহ দেখাই নি। এছাড়া আমার স্ত্রী হাসাপাতালে যাবার পক্ষে ছিলেন না। তাই বাসায়ই ট্রিটমেন্ট নিতে থাকি । টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকি। এরই মধ্যে বাসায় একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারও আনিয়েছি। তখন প্রতিদিন নেবুলাইজ করেছি। ইনেহলার নিয়েছি। ব্যায়াম করেছি। কিন্তু রিজেন্ট কিংবা অন্য কোন হাসপাতালে যাবার কথা আর মাথায় আনিনি। নিজের এবং পরিবারের সবার চেষ্টায় আমি করোনামুক্ত হয়েছি।

সে সময় টায় নিয়মিত পত্রিকা পড়া হতো না। যদিও অফিস কামাই করি নি। প্রতিদিনই কাজ করেছি। ১৯ মে হঠাৎ আমার/আপনার প্রিয়, বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটা নিউজের লিংক দেখতে পাই । যেটা মূলত ১৫ মে ছাপা হয়েছিল। সেটা এখানে শেয়ার করলাম। এরপর হাসপাতালে যাবার কথা আর মাথাতেই আনিনি।

শেয়ার করুন