ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগাতিপাড়ার লেপ-তোষকের কারিগররা

প্রকাশিত

আব্দুল আওয়াল, বাগাতিপাড়া (নাটোর) : শীত আসছে, তাই নাটোরের বাগাতিপাড়ায় লেপ-তোষকের কারিগররাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি বেড হাউজ গুলোতে কারিগররা লেপ তৈরিতে এতটাই ব্যস্ত যে, কথা বলার পর্যন্ত সময় নেই তাদের। আবার শীতের আগমনে আগে থেকেই বিক্রির জন্য লেপ তৈরি করে মজুদও করছেন তারা।

ক’দিন থেকেই উত্তরাঞ্চলে রাত ও ভোরে শীতের আগমনী বার্তা টের পাওয়া যাচ্ছে, সাথে ভোরে পড়ছে হালকা কুয়াশা। শেষ রাতে এ অঞ্চলের মানুষের শরীরে উঠছে লেপ ও কাঁথা। পরিবারের বাক্সবন্দি করে রাখা লেপ-তোষক বের করছে ঠিক করার জন্য। আবার কেউ নতুনভাবে তৈরি করছেন। বিভিন্ন লেপ-তোষক তৈরি কারখানায় কারিগরদের তুলা ধুনার টুংটাং আওয়াজ আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো তুলাই জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমন।

উপজেলার মালঞ্চি বাজারের লেপ-তোষকের কারিগর মোবারক হোসেন জানান, তিনি নিজেই লেপ-তোষক তৈরি করে থাকেন। তবে শীত মৌসুমে লেপের চাহিদা বেশি হওয়ায় কয়েক মাসের জন্য একজন কারিগর রাখেন। এই বছর শীতের আগমন উপলক্ষে লেপ তৈরির জন্য এক সপ্তাহ আগে থেকেই দোকানে এসে মানুষ অর্ডার দিতে শুরু করেছেন। আর কিছু লেপ আগে থেকেই বানিয়ে রাখছেন তিনি, যাতে শীত বাড়ার সাথে সাথে চাহিদা বাড়লে সেগুলো বিক্রয় করতে পারেন। লেপের আকার ও তুলা ভেদে দাম রাখছেন ৬’শ টাকা থেকে ১২’শ টাকা। আর দেশী শিমুলের তুলা দিয়ে ২২’শ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রয় করছেন।

তমালতলা বাজারে রাব্বি বেড হাউজের মালিক নূর ইসলাম বলেন, পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে ভোরের হালকা কুয়াশায় শীতের আমেজ একটু বিরাজ করছে। এতেই লেপ তৈরির অর্ডার শুরু হয়েছে। দোকানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি করে অর্ডার মিলছে। তবে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে লেপ-তোষকের অর্ডার বাড়বে। তখন রাত-দিন সমানতালেই কাজ করতে হবে আমাদের। আর এই শীত মৌসুমে ৪’শ থেকে ৫’শ লেপ বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে তার। এদিকে দুইজন করিগর রয়েছে তার দোকানে যাদের একজনকে মাসে ১৩ হাজার টাকা এবং অপর জনকে সাত হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। এবছর কিছুটা আগাম শীতের ফলে ভলো ব্যবসা হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

শেয়ার করুন