বোমা হামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চায় বিএনপি

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছে বিএনপি।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এ ঘটনায় যারা দায়ী, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে অবিলম্বে সেই দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন দাবি করেন। এর আগে, দলের শীর্ষ নেতা ও অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি নেয় বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বোমা হামলায় নিহতের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ছাড়া আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলাচালে শুক্রবার রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের হোসেনী দালানের সামনে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের আগে বিএনপিকে জড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। আর বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন ক্ষমতাসীনদের মতো করে কথা বলছে। এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে এক সময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’

তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলার ঘটনা তদন্তে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশেই অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা রয়েছে। তবে সমস্য হচ্ছে, তদন্তের আগেই বিএনপিকে জড়িয়ে কথা বলা হচ্ছে।’

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে—এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দলকে বিভিন্ন সময়ে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এখন বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিএনপি সম্পূর্ণভাবে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল। দলটিকে জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত— এমন কথা বলে সরকারি দলের লোকেরা বিএনপিকে ভুলভাবে চিত্রিত করতে চায়।’

‘একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। বিএনপি সেই দল যারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছে। বিএনপি সবসময় মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে’ যোগ করেন তিনি।

দ্রুত দেশে ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে অতি দ্রুত দেশে ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করা খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন না— বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি গভীর চক্রান্ত। বিএনপিনেত্রী তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গেই কথাগুলো বলতে চাই, তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। চোখের চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে পায়ের চিকিৎসাও হচ্ছে। চিকিৎসক ছেড়ে দেওয়ামাত্রই তিনি দেশে ফিরে আসবেন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এক-এগারো সময়ে খালেদা জিয়াকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। দেশনেত্রী তখন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটি আমার জন্মভূমি, আমি এখান থেকে কোথাও যাব না। এ দেশের মানুষের সঙ্গে তার ভাগ্য জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সারাজীবন কাটিয়েছেন। এখানও মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছেন।’

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে অনুমান নির্ভর হয়ে রিপোর্ট না করে দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলতে গণমাধ্যমকর্মীদের পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয় নেত্রী। সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার সম্পর্কে শুধুমাত্র চিন্তাভাবনা করে বা অনুমান নির্ভর করে রিপোর্ট করলেও তা জনগণ সঠিকভাবে গ্রহণ করবে না। প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন।’

দুই বিদেশী হত্যা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা

সম্প্রতি দুই বিদেশী হত্যায় বিএনপিকে জড়িয়ে শাসক দলের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘যখন এই ধরনের কথা বলা হয় তখন একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই তা করা হয়। শুরু থেকেই বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় এবং ষড়যন্ত্রের মধ্যেও জড়িত নয়। ষড়যন্ত্র করছে তারা, যারা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি পুলিশ হত্যায় বগুড়া থেকে বিএনপি নেতা ও যুবদল সভাপতিসহ অনেককে আটক করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে একটি চক্রান্ত। এর মূল উদ্দেশ্য জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। কিন্তু এটি সম্ভব নয়। কারণ বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল এবং মানুষের আশা আকাঙ্খা পূরণের জন্য রাজনীতি করে যাচ্ছে।’

বিএনপি নির্মূলে মিথ্যা মামলা

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘বিএনপিকে নির্মূল এবং নেতৃত্বশূন্য করতেই কেন্দ্র থেকে শুরু করে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

সাদেক হোসেন খোকাকে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে আমরা হতাশ। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

এর আগে, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ওলামা দল সভাপতি হাফেজ এম এ মালেক, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

শেয়ার করুন