বিসিজি টিকার সঙ্গে করোনার সম্পর্ক; যা বলছেন আব্দুন নুর তুষার

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক : একটা কথা খুব চলছে যে বিসিজি দেয়া থাকলে কোভিড এর আক্রমন কম হবে, হলেও মারাত্মক হবে না।

এটা একটা হাইপোথেটিকাল পেপার এর উপরে সংবাদ করা হয়েছে। যারা এই্ তত্ব দিয়েছেন তারা বলেছেন এই কথা প্রথম বলেছিল নেটেয়া ও তার দলবল। তারপর একবারই একটি র‌্যান্ডমাইজড প্লাসেবো কন্ট্রোলড হিউম্যান স্টাডিতে ইয়েলো ফিভার ভাইরাসের সাথে এই তত্বের একটি দুর্বল সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।

এই দুই গবেষক একই পরিবারের ও তুরষ্কে তাদের বসবাস।

এরপর তারা যেটা বলেছেন সেটা হলো বিশ্বব্যাপি বিসিজি টিকার স্ট্রেইন একরকম না। এটা ১৯২১ সালে প্রথম দেয়া হলেও এটার স্ট্রেইন পরে বহুবার বদলে গেছে। এর বীজ বিভিন্ন দেশে দেয়ার পর এর জেনোমিক পরিবর্তন হয়েছে যার মধ্যে ডিলিশন, সিংগল নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম ও ডুপ্লিকেশনের ফলে নতুন সাবস্ট্রেইন তৈরী হয়েছে।

তারপর তারা বলেছেন ব্রাজিল মরো স্ট্রেইন, জাপান স্ট্রেইন, রাশান স্ট্রেইন, প্যাস্টুর স্ট্রেইন এসবের মধ্যে গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে এদের নিজেদের মধ্যেই বিস্তর তফাত আছে।

তারপর বলেছেন যে তারা কেন মনে করছেন যে বিসিজির সাথে কোভিডের সম্পর্ক আছে। কারন ইটালিতে বিসিজি টিকা দেয়া হয় না।

আবার বলেছেন ইরানে ও চীনে এত লোক আক্রান্ত হলো ও মরলো কেন? কারন তাদের বিসিজি ভালো না।

তারা বলেছেন যে চায়নার বিসিজি গ্ল্যাক্সো ১০৭৭ স্ট্রেইন আর ইরানেরটা প্যাস্টুর ১১৭৩পি২ স্ট্রেইনএবং সন্দেহ করেছেন এগুলির শক্তি কম।

হাইপোথিসিসের দুর্বলতা কোথায় বুঝতে পারছেন?

১. রোগ কম থাকলে বিসিজি দিয়েছে তাই কম।
২. টিকা দেয়ার পরেও রোগ বেশী হলে বিসিজি দুর্বল।
৩. টিকা দেয়া না থাকলে, টিকা দেয় নাই , তাই রোগ বেশী।

তাহলে জার্মানীতে তো বিসিজি দেয় না।
সেখানে রোগ কম কেন?

তাহলে

বিসিজি কাজ করার প্রমান কি?

কোন প্রমান নাই্। তারা কেবল ধারনার ভিত্তিতে এটা বলছেন।

কিন্তু এই দেশগুলি কিন্তু পোলিওর টিকাও দেয় না।
তাহলে কি পোলিওর টিকা না দেয়ায় এরা মরছে?

কেন তারা এমন বলছেন। বলছেন কারন ইটালিতে আমেরিকায় ইউকে তে এটা বেশ মারাত্মক হচ্ছে। আবার ইউকেতে তত মারাত্মক না যতোটা ইটালিতে।

কেবল ইটালি ও ইউএসএ বিসিজি দেয় না । ইউ কে টার্গেটেড বিসিজি দেয় ২০০৫ সাল থেকে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশে বিসিজি দেয় না। জার্মানি কিন্তু তারপরেও রোগ নিয়ন্ত্রন করে ফেলেছে প্রায়।

এই গবেষকরা তাদের বিসিজি হাইপোথিসিসে টেস্টিং, আইসোলেশন, ডিসট্যান্সিং, কোয়োরেন্টিন কোন কিছু আমলে নেন নাই।

বিসিজি দিলে নাকি এটা ইমিউনোমড্যুলেটিং এজেন্টের কাজ করবে। করতেও পারে। নাও পারে। কিন্তু সেজন্য বিসিজি দিয়েছি তাই বেঁচে গেছি ভাবার কোন কারন নাই।

এবার অন্য একটা হাইপোথিসিস বলি।
মিয়ানমারে কোভিড কম।
কারন মিয়ানমারে পোলিও আছে।
পোলিওর টিকাও দেয়।

এখন কি পোলিওর টিকা কোভিডে কাজ করে কিনা সেটা দেখা দরকার? মোটেও না।

পৃথিবীতে বিসিজি তৈরীর প্রধান দেশ জাপান। ৫০ টি দেশে তারা এটা সরবরাহ করে। তাদের পরে আছে ডেনমার্ক।

বিসিজির চাহিদা এমনিতেই বাড়ছে। আরো বাড়বে হয়তো।

দয়া করে বোঝার চেষ্টা করেন।

যে কোন ট্রায়াল, সেটা ভ্যাক্সিন হোক আর ঔষধ, এটা কোন প্রমানিত বিষয় না।

হাইপোথিসিস হলো ধারনা। এটা সবসময় সত্য না। ভুলও হতে পারে।

অতএব পত্রিকা ও চ্যানেলের সংবাদ পড়ে বিসিজি টিকা নিয়ে বা যে কোন ঔষধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে, আসল কাজ করুন।

সোশাল ডিসট্যান্সিং দরকার।
দরকার মাস্ক
দরকার হাত ধোয়া।
দরকার ভীড় এড়িয়ে চলা।

আর দরকার হলো আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন, টেস্ট টেস্ট টেস্ট ও নিয়মমতো চিকিৎসা।

এটা প্রমানিত যেখানে টেষ্ট বেশী, সেখানে সমস্যা কম।
যেখানে মানুষ কথা শোনে সেখানে সমস্যা কম।

যে সব দেশের মানুষ এটা পেরেছে তারা পেরেছে।

যারা পারে নাই, তারা বিসিজি দিলেও পারে নাই।

শেয়ার করুন