বন্যায় সব শেষ, এরপরও আবাদ না করলে খাব কী?

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক: বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের কৃষকরা। ইতোমধ্যে বন্যার পানি নেমে যাওয়া এলাকার কৃষকরা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে চারা এনে নিজ নিজ জমিতে রোপণ শুরু করেছেন।

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ধানের চারা, মাস কলাই বীজ ও সারসহ সবজি বীজ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় ৮৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭৩১ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর এবং আউশ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাকি জমিগুলোতে আমন ধান লাগানো হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলায় চলতি বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে পচে নষ্ট হয়েছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। তবে এরই মধ্যে অনেক এলাকায় বন্যায় ডুবে যাওয়া ফসলি জমি জেগে উঠেছে।

সেসব জমিতে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বন্যামুক্ত পাহাড়ি এলাকা থেকে কৃষকরা উচ্চমূল্যে ধানের চারা এনে রোপণ করছেন। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর নতুন করে বন্যা না এলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

দেলদুয়ার উপজেলার পুটিয়াজানী গ্রামের কৃষক রফিক বলেন, চলতি বন্যায় আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি জিআর-১১ দেড় মণ ধান বীজ বুনেছিলাম; তা নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে।

এরপরও আবাদ না করলে খাব কী? এজন্য পাহাড় থেকে ১২০০ টাকায় পাঁচ কেজি আমন ধানের চারা কিনে রোপণ করছি। আল্লাহ যদি দেয় তাইলে বন্যার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব।

মজিবর, কাদেরসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, ময়মনসিংহ থেকে চারা এনে রোপণ করছি। এই বন্যায় ধানের বীজ নষ্ট হয়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে আমাদের। আবার বন্যা এলে মারা যামু।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আহ্সানুল বাসার বলেন, জেলার ১২ উপজেলায় ৮৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪০ ভাগ। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭৩১ হেক্টর জমিতে সম্পন্ন হয়েছে ধান চাষ। পানি নেমে যাওয়ার পর এবং আউশ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাকি জমিতে আমন ধান লাগানো হবে।

শেয়ার করুন