ফরিদপুরে ২ দল গ্রামবাসির সংঘর্ষে নিহত ১, বসতবাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্কঃ ফরিদপুরের নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে জাফর মোল্যা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত জাফর মোল্যা উপজেলার বড় পাইককান্দী গ্রামের জলিল মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, নগরকান্দা উপজেলার বড় পাইককান্দী গ্রামের কালু মাতুব্বরের সাথে আক্তার মাতুব্বরের দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) বিকালে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়।

সংবাদ পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে জাফর মোল্যা ও সরোয়ার খানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে রবিবার রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ফরিদপুর মেডিকেলে নেয়ার পথে আক্তার মাতুব্বরের সমর্থক জাফর মোল্যা মারা যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। জাফর মোল্যার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথে আক্তার মাতুব্বর গ্রুপের সমর্থকেরা কালু মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব চালায়। প্রায় ১৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কালু মাতুব্বর মুঠোফোনে বলেন, মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আক্তার মাতুব্বর তার সমর্থকদের নিয়ে প্রায় ১০টি দল তৈরি করে এলাকায় লুটপাট ও ভাঙচুর চালাতে থাকে। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে যায়।

নগরকান্দা থানার ওসি শেখ মোঃ সোহেল রানা বলেন, জাল চুরি নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা শান্ত রাখার জন্য ও লুটপাট ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন