প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছান স্বরাষ্ট্র সচিব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে স্বরাষ্ট্র সচিব বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যান।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

‘এই ফাইলের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আমার কিছু বলা সমীচীন নয়’- মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মুহম্মদ জহিরুল হক প্রাণভিক্ষার ফাইলটি সচিবালয় থেকে আইনমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার বিষয়ে জানতে শনিবার কারাগারে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করেন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মোর্শেদুর রহমান ও তানভীর আহমেদ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারাগারে প্রবেশ করেন তারা। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে সেখান থেকে বের হয়ে যান।

দুই ম্যাজিস্ট্রেট কারাগার থেকে বের হয়ে আসার কিছুক্ষণ আগেই প্রাণভিক্ষার আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে ডেপুটি জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান ও আরিফুজ্জামান কারাগারে প্রবেশ করেন।

দুই ডেপুটি জেলার কারাগারে প্রবেশের পর পরই ম্যাজিস্ট্রেটদের কারাগার থেকে বের হতে দেখা যায়। তবে ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি জেলারের কেউই কোনো বিষয়ে মুখ খোলেননি।

এদিকে সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশনের বা প্রাণভিক্ষার আবেদন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে।

মন্ত্রণালয় থেকে আইনসচিব প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে গুলশানে আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। সেখানে আইনমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করেন। এরপর স্বরাষ্ট্র সচিব আবেদনটি নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে যান।

যদিও সাকা ও মুজাহিদের ছেলেরা দাবি করেন, তাদের বাবা প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন তা তারা বিশ্বাস করেন না।

শেয়ার করুন