প্রণোদনা কীভাবে নেবেন ভেবেছেন কি?

প্রকাশিত

আরিফুর রহমান তুহিন : ধরুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন সাংবাদিকদের জন্য প্রণোদনা দেবেন। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় আপনারা দেবেন? কাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এটা দেবেন? আসুন অপশনগুলো দেখি।

১. সাংবাদিক ইউনিয়ন: যেকোনো পেশার অভিবাবক হলো সাংবাদিক ইউনিয়ন। স্বাভাবিকভাবেই সব দাবি আদায় ও কোনো প্রণোদনা বণ্টন করার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো গণমাধ্যম কর্মীদের এই অভিভাবক সংগঠনে অধিকাংশ কর্মীই সদস্য না। এর প্রধান কারণ ইউনিয়ন সেই আদিকাল থেকে দুই ভাগে বিভক্ত। আপনি যে অংশেরই সদস্য হবেন ধরে নেওয়া হবে আপনি সেই দলের রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। আপনার শরীরে একটি অলিখিত ট্যাগ লেগে যাবে। এছাড়া এই দুই ইউনিয়নের সদস্যদের বড় একটি অংশ ভুয়া বা বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে আসছেন নেতারাই। সুতরাং এখানে আপনার প্রণোদনা নিরাপদ কী না আপনিই ভেবে দেখবেন।

২. জাতীয় প্রেসক্লাব: জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ নিয়ে টানপোড়ন অনেক পুরনো। এই দ্বন্দ্ব থেকেই নাকি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সৃষ্টি বলে অগ্রজরা জানিয়েছেন (তথ্যে বিভ্রাট থাকলে শুধরিয়ে দিবেন)। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের গণমাধ্যম কর্মীদের কোনো ডাটাবেজ নেই। তাই এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো সহযোগীতা আসলে সাধারণ গণমাধ্যম কর্মীরা বঞ্চিত হবেন বলেই ধারণা বেশিরভাগের।

৩. ডিআরইউ: ডিআরইউ কেবল প্রতিবেদকদের সংগঠন। আমি বেশকিছু সাব-এডিটরের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। তারা বলছেন, এটা যেহেতু একটি বিভাগভিত্তিক সংগঠন তাই এখানে অন্য বিভাগ কিছুটা হলেও বৈষম্যের শিকার হতে পারে। যদিও তারা মনে করছেন, অন্য সংগঠনগুলোর চেয়ে ডিআরেইউ অনেকটাই স্বচ্ছ।

৪. মালিকপক্ষের মাধ্যমে: সাধারণত মালিকপক্ষের মাধ্যমে এটা করা গেলেই সবচেয়ে বেশি সুবিধা হতো। কিন্তু বাস্তবে কি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো প্রণোদনা আসলে তা গণমাধ্যম কর্মীরা পাবে।

একটু বাস্তব চিত্র দেখি। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১১০টিরও বেশি পত্রিকা ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু আসলে কয়টি বাস্তবায়ন করেছে তা গণমাধ্যম কর্মীরাই ভালো বলতে পারবেন। মূল ধারার হাতো গোনা কয়েকটি গণমাধ্যম বাদে বাকিগুলোর বেতনের চেয়ে গার্মেন্টসের লোডারের বেতন বেশি। ডিএফপির তথ্যে ওইসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রতিবেদককে ৩৮ হাজার বা তার অধিক টাকা বেতন দিলেও বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার থেকে বেতন শুরু করে। অথচ সরকারি বিজ্ঞাপনে তাদের রেট মূল ধারার প্রথম ৫টি গণমাধ্যমের সমান। এমনও আছে যে ছাপা সংখ্যা ও বেতন কাঠামো ঠিক থাকার পরেও তাদের চেয়ে বেশ কিছু মূলধারার পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট অনেক কম। এখন আপনারাই বলেন, এদের কাছে আপনার প্রণোদনা আসলে আসলেই কি আপনি পাবেন????

তাহলে উপায় কি? একটা উপায় তো বের করতে হবে। হ্যা উপায় আছে।

১. আমাদের সুধরাতে হবে। দলবাজি না করে সাংবাদিকবাজি করতে হবে। আমাদেরকে নিজেদের অধিকার বুঝতে শিখতে হবে।

২. চামবাজ, দালাল ও সুবিধাবাজ নামধারী সাংবাদিক নেতাদের এখনই আস্তাবলে নিক্ষেপ করতে হবে। এজন্য চাই নিজেদের ঐক্য। এর কোনো বিকল্প নেই।

৩. অবশ্যই প্রত্যেকটি গণমাধ্যম অফিসে কর্মরতদের একটি ডাটাবেজ করতে হবে। এটা প্রতি ৬ মাস পরপর হালনাগাদ করতে হবে। এটা অবশ্যই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এটা করতে হবে। এজন্য ওই হাউজের বার্তা প্রধান বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অ্যপ্রুভাল থাকতে হবে।

৪. যেসব গণমাধ্যম কর্মীর চাকরি নেই তাদের একটি তালিকা করতে হবে এবং সেক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চত করতে হবে।

৫. এসব তথ্য একটি ওয়েবসাইটে থাকবে, যেটি তথ্য মন্ত্রণালয়, ডিআরইউ ও জাতীয় প্রেসক্লাবের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

৬. গণমাধ্যম কর্মীদের কল্যাণ ফান্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই অর্থের যৌক্তিক প্রয়োগ করতে হবে।

এখনই সময় নিজেদের শক্তিশালি করার…………….

লেখক : সাংবাদিক, দৈনিক দেশ রূপান্তর।

শেয়ার করুন