পাকনা হাওরে বোরোচাষে পানি নিষ্কাশনে স্বেচ্ছাশ্রম

প্রকাশিত

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৃহত্তর বোরো ফসলী এলাকা পাকনা হাওরে সময় মতো বোরো চাষ করতে পানি নিষ্কাশনে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন এলাকার কৃষকরা। এই হাওরে জেলার জামালগঞ্জ ও দিরাই (আশিংক) উপজেলার এক ফসলী প্রায় ১১ হাজার হেক্টর বোরো জমি রয়েছে। প্রতি বছরই পাকানা হাওরের জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় অর্ধেক জমিই অনাবাদি থেকে যায়। পানি নিষ্কাশনে অস্থায়ী বাঁধ কাটা নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝিও হয়ে আসছে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। এ কারণে কৃষিকাজ শুরুর মওসুমেই হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের অস্থায়ী ডুবন্ত বাঁধ কেটে খাল তৈরীর কাজ করছেন।

ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষকরা জানান, বোরো ফসল রোপনের বীজ বুনা থেকে শুরু করে হাওরের ঢাইল্ল্যা বাঁধ, গজারিয়া বাঁধ ও পাঠামারার খাল খনন করতে হয়। এই নালা গুলো সময় মতো খনন করলে দ্রুত বীজতলা ভেসে যায়। ধানের বীজতলা ভাসার সাথে সাথে বীজ বোনা হলে হাওরের সঠিক সময় চাষাবাদ হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারের কোন বরাদ্ধ না থাকলেও এলাকাবাসী মিলেমিশে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিবছরই এই কাজ করেন। এতে বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টির ১৫ দিন পূর্বেই বোরো ফসল ঘরে উঠার সম্ভাবনা থাকে।

ফেনারবাঁক গ্রামের সাবেক মেম্বার ও কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা প্রতি বছরই স্বেচ্ছা শ্রমে পানি নিষ্কাশন থেকে শুরুর করে হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মানেও কাজ করি। সে ক্ষেত্রে গ্রামের প্রতিটি ঘর থেকে সক্ষকম একজন করে কৃষক নিজেদের খাবার নিজেরাই নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম পর্যায়ে পালা বদল করে এই কাজ করি। সরকারের কোন বরাদ্ধ না থাকলেও আমরা নিজেরাই যুগ-যুগ ধরে নিজ উদ্যোগে এমটি করে যাচ্ছি। তবে এবার শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদের এই উদ্যোগটি ভালো হয়েছে। ধানের বীজ তলা তৈরীতে সময় আরো এগিয়ে আসবে।

ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব অজিত কুমার রায় জানান, ফসল রোপনের সময়ে কৃষকরা প্রতিবছর হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সমস্যায় পড়েন। এ জন্য পাকনা হাওরে বিপুল পরিমান বোরো ফসল আবাদ হয়না। এ কারণে সম্প্রতি ফেনারবাঁক ইউনিয়নের হাওর পাড়ের কৃষক, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গত বছরের হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের (পিআইসি) কয়েকজন ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ নিয়ে ইউপি কার্যালয়ে একটি সভা হয়। সভা সিদ্ধান্ত হয় ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় কৃষকদের সমন্বয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা। এরই প্রেক্ষিতে ঢাইল্ল্যা বাঁধে পানি নিষ্কাশন কজ শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রæত পানি কমবে কৃষক ভাইরা আগাম বীজ বপন করতে পারবেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনে স্থানীয় কৃষক ও ইউনিয় পরিষদ মিলে যে কাজ করছেন, তাদের সহযোগীতার বিষটি আমরা দেখবো।

সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, জামালগঞ্জের পাকনা হাওরের জলাবদ্ধাতা দুর করতে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কানাইখালী নদী ও গজারিয়ার খাল খননে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে। এই কাজ সম্পন্ন হলে আশা করি কৃষক ভাইদের পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে আর কোন সমস্য হবে না

শেয়ার করুন