পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য ফরজ

প্রকাশিত

ফারুক আহমেদ : আর প্রত্যেক জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত জামায়াতের সহিত সালাত আদায় হইতে হবে। এটি হচ্ছে ফরজে কেফায়া।

” যে ফরজ কিছু লোক আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায় একে ফরজে কেফায়া বলে।”
(মা.কা.ফি পৃ-৪১০)

” মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য ৩ জন অর্থাৎ ১ জন ইমাম ও ২জন মুক্তাদি নিয়ে সালাত পড়লে জামায়াতের সহিত সালাত আদায় হয়ে যাবে। অন্যদিকে, জুমার নামাজ ১ জন ইমাম ও ৩ জন মুক্তাদি নিয়ে আদায় করলে জুমার নামাজ হয়ে যাবে।”

এইক্ষেত্রে বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ৫ জন ও জুমার নামাজে ১০ জন পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের ফরজে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে।

অন্যদিকে,
প্রত্যেক মুমিনের জন্য জামায়াতে সালাত আদায় করা সুন্নতে কেফায়া।
অর্থাৎ পড়লে অধিক সওয়াব, জামাতে না পড়লে গুণাহ নেই।
আর ফরজ নামাজ ঘরে একাকি আদায় করা যায়। এতে নামাজের কোন শর্ত নষ্ট হয় না। অর্থাৎ সালাত আদায় হয়ে যাবে।

# আপনি যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি নামাজের জন্য মসজিদে গেলে বা জামায়াতে অংশগ্রহণ করলে-
১. অন্যদের ক্ষতি হবে অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত হবে।
২. আপনার জন্য অন্য কেউ ইন্তেকাল করলো, অর্থাৎ আপনি হত্যাকারী।
৩. এমনকি আপনিও অন্য কারো মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারেন।

আর, আপনি যেহেতু নিজেও শিওর হয়ে বলতে পারেন না, আপনি করোনায় আক্রান্ত কিনা। কারণ করোনা রোগের লক্ষণ ১৪ দিন পর্যন্ত মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। কিন্তু সুপ্ত অবস্থায় থাকাকালেও এটি ছড়াতে পারে।

১) বলা হয়ে থাকে জীবন বাঁচানো হচ্ছে ফরজ কাজ।
২) আপনি অন্যের ক্ষতি করলেন এটি হারাম কাজ।
৩) অন্য কেউ আপনার জন্য প্রাণ হারালো, এটি একইসাথে হত্যা ও হারাম।

আপনার জামায়াতে সালাত আদায় করা হচ্ছে সুন্নতে কেফায়া। আর আপনি সুন্নতে কেফায়া পালন করতে গিয়ে ফরজ বাদ দিলেন বা হারাম কাজ করলেন।
এইজন্য আপনি মহামারীতে মৃত্যুর পরও হয়তো শহীদী মর্যাদা পাবেন না। (হযরত মুহাম্মদ সাঃও জীবন সংকটাপন্ন সময়ে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন)

# ইসলাম এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম, যেখানে কারো কোন রকম ক্ষতি হয়, এমন কাজ করতে কখনো বলা হয় নি।

নিশ্চয়ই করোনা আল্লাহর গজব, আমরা মানবিক হলে হয়তো তিনি এই গজব থেকে আমাদের মুক্তি দিবেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবদ্দশায়ও একবার মহামারী দেখা দেয়, তখন তার এক সাহাবা আক্রান্ত হয়। তখনও তিনি কোয়ারেন্টাইন এর নির্দেশ দেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুক।

এটি সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত লিখা, যদি কোন ভুল করে থাকি বা কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি ক্ষমা করে দিবেন।

লেখক : উদ্ভিদ বিজ্ঞান,জবি । প্রভাষক, ডেমরা আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা।

শেয়ার করুন