নন্দীগ্রামে আমন ধানক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ : দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত

মো: ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে আমন ধানক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লালন-পালন করা কষ্টার্জিত ফসলকে কারেন্ট পোকার হাত থেকে বাঁচাতে নাভিশ্বাস উঠেছে কৃষকদের।

এ বছর নন্দীগ্রাম পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়নে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ফসলের মাঠে হালকা বাতাসে দোলা খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ, আবার অনেক জায়গায় মাঠ যেন সবুজের সমারোহ। ধান উৎপাদনের দিকে বিখ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রতিবছর এখানে অনেক ধান উৎপন্ন হয়। যা উপজেলার চালের চাহিদা মিটিয়েও অন্য জেলা-উপজেলায় বাজারজাত করা হয়।

 

গত বারের মত এবারো কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

এ সময় যে অবস্থা খরচ তোলাই কঠিন হতে পারে।

ফলে কৃষকরা হতাশায় পড়েছেন।

 

এ বছর ১৯ হাজার ১শ’ ১৮ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এখন ধানের সময় প্রায় শেষের দিকে আর এ সময় জমিতে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পোকা হচ্ছে বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকা। এ পোকা ধানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এখন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকা ভয়ানক আক্রমণ করেছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার ফোকপাল গ্রামের কৃষক শাহ আলম, রিধইল গ্রামের বুলু মিয়া, জয়নাল আবেদিন, মামুনুর রশিদ জানান, আমন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কোন কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। এখন ধানের শীষ বের হয়ে পাকতে শুরু করা ধানগুলো কারেন্ট পোকার আক্রমণে শুকিয়ে খড়ে পরিণত হচ্ছে।

এ ছাড়াও উপজেলার একাধিক কৃষক অভিযোগের সুরে জানান, গত বারের মত এবারো কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ সময় যে অবস্থা খরচ তোলাই কঠিন হতে পারে। ফলে কৃষকরা হতাশায় পড়েছেন। এ সময় উপসহকারী কৃষি অফিসাররা এখন পর্যন্ত আমাদের কারেন্ট পোকা থেকে ধানক্ষেতকে বাঁচাতে কোন দিকনির্দেশনা প্রদান করেননি। আমাদের ফসলের দিকেও তাদের কোন লক্ষ্য নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আদনান বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কারেন্ট পোকার কবল থেকে ফসল রক্ষার জন্য ও কৃষকদের কারেন্ট পোকা বিষয়ে সজাগ করার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ, মাঠ দিবস, পরিদর্শন, উঠান বৈঠকসহ সব বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও নিয়মিত গাছের গোড়া পর্যবেক্ষণ করা, জমিতে পোকা দেখা দিলে জমি থেকে পানি সরিয়ে জমি কয়েকদিন শুকিয়ে রাখা। আরও বলা হয়েছে ৪-৫ সারি পর পর বাঁশ দিয়ে ফাঁকা করে আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করা ও বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৭ কেজি এমওপি সার প্রয়োহসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন