ধর্ষণ ও হত্যার শিকার কিশোরী দেড় মাস পর জীবিত বাড়ি ফিরলো!

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক : কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার স্বীকারোক্তির পর জীবিত বাড়ি ফিরলো কিশোরী।

কিশোরিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া হয় নদীতে, আদালতে এমন স্বীকারোক্তিই দিয়ে কারাগারে তিন আসামি। তবে, দেড় মাস পর ফিরেছে সেই কিশোরী। আসামির পরিবার জানায়, রিমান্ডে মারধর করে জোর করে নেয়া হয়েছে জবানবন্দি। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তিও চান আসামিদের স্বজনরা।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী দিশা মনি গত ৪ঠা জুলাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর মেয়ের সন্ধান না পেয়ে, এক মাস পর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ঘটনায় দিশার মায়ের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে, ওই তিন আসামিকে দু’দফা রিমান্ডে নেয়া হয়। এরপর পুলিশ জানায়, আসামিরা কিশোরী দিশাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

কিন্তু, ঘটনার দেড় মাস পর ২৩ আগস্ট ফিরে এসেছে কিশোরী দিশা মনি। পরিবারের দাবি, সে শারীরিক প্রতিবন্ধি এক যুবকের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে তার সাথেই থাকতো। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরদ্ধে এখন তাদের আর কোনো অভিযোগ নেই।

দিশা মনির মা রেখা আক্তার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবকের বিরুদ্ধে তার আর কোনো অভিযোগ নেই। তিনি তাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর দিশার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেন আর কোনো অভিযোগ না থাকে তিনি সে ব্যবস্থা করবেন।

তবে, এই মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির কারাভোগ ও জবানবন্দি দেয়ার বিষয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আসামিদের পরিবারের দাবি, রিমান্ডে তিনজনকে মারধর করে জোর করে নেয়া হয়েছে ধর্ষণ ও হত্যার স্বীকারোক্তি।

আসামি আবদুল্লাহর মা শিউলি বেগম বলেন, ‘নিরপরাধ হওয়ার পর আমার ছেলেকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। জোরপূর্বক আসামি করা হয়েছে।’ আর নিখোঁজ হওয়া মেয়ে এতদিন পর কিভাবে উদ্ধার হলো সে প্রশ্ন তোলেন আবদুল্লাহর মা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন শিউলি বেগম।

আরেক ভুক্তভোগীর স্বজন শারমিন বেগম জানান, রিমান্ড থেকে বাঁচানোর জন্য তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু, ২০ হাজার টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় ৬ হাজার টাকা দিয়েই দফারফা হয়।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের।

শেয়ার করুন