দেশে ফিরতে পারছেন না ফ্রান্স প্রবাসী কেনেট স্টিফেন এসেনসন

প্রকাশিত

গাজীপুর থেকে সংবাদদাতা : মিথ্যা ও বানোয়াট ধর্ষণ, ধর্ষনপূবক হত্যার অভিযোগ ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে পলাতক হয়ে আছেন খ্রিস্টান সংখ্যালঘু কেনেট স্টিফেন এসেনসন। পিতার হত্যার বিচারতো দূরে থাক এখন নিজের জীবন নিয়েই টানাটানিতে কেনেট। আর তাই নিরাপত্তার অভাবে পালিয়ে বিদেশে আটকে আছেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা আর ভিটেমাটি দখল হওয়ার খবর পেয়েও দেশে ফিরতে নিরাপদ বোধ করছেন না ফ্রান্স প্রবাসী কেনেট স্টিফেন এসেনসন। গুম-খুনের হুমকির ভয়ে তিনি অসুস্থ মা ও ভাইয়ের পাশে আসতে সাহস করছেন না। সম্প্রতি কেনেটের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব কথা জানানো হয়।

* ধর্ষণ, হত্যা ও অস্ত্র আইনে তিন মামলা
* দুই মামলায় হুলিয়া জারি

জানা গেছে, ফ্রান্স প্রবাসী রাজীব কেনেট স্টিফেন এসেনসন এর বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জের, আরাগাঁও গ্রামে। উগ্র মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে প্রাণ রক্ষার্থে উপায় না পেয়ে গত মার্চ মাসে ফ্রান্সে পাড়ি জমান কেনেট।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সূত্রপাত মুলত তাদের পৈত্রিক ব্যবসা শুকরের মাংশ বিক্রিকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসী মো: সুহেল মোল্লা ও তার সহযোগীদের অত্যাচার হামলায় ২০১৫ সালে তাদের শুকরের খামারে আগুন দেয়াসহ ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয় কেনেট। পরে গেল বছর ফের চালু করে শুকরের মাংস বিক্রির পৈত্রিক ব্যবসা। শুকরের মাংস বিক্রি ফের চালু করায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে সুহেল মোল্লা কেনেটের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলায় আহত হন কেনেটের বাবা রবার্ট আগাস্টিন এসেনসন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা যান।

উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে সুহেল মোল্লা কেনেটের বাড়িতে হামলা চালানোর পর আহত হন কেনেটের বাবা রবার্ট আগাস্টিন এসেনসন ও পরিবারের সদস্যরা

এদিকে চোরাচালান সিন্ডিকেটের কার্যক্রমে সহযোগীতা না করায় বেশ বিপদে পড়তে হয় কেনেটকে। সোনা চোরাচালানের সিন্ডিকেটের সদস্য মো: মিজানুর ইসলাম একটি চালান ধরা খাওয়ায় কেনেট স্টিফেনকে হুমকী দেয়। ক্রমাগত হুমকীতে মৃত্যুর ভয়ে কেনেট চাকুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে চোরাচালান সিন্ডিকেট কেনেটের এলাকার উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী সুহেল মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে ফের হামলা চালায় কেনেটের ওপর। এ সময় মৌলবাদীদের এ বিষয়ে মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নেয়নি। উল্টো বিমানবন্দরের চোরাচালান সিন্ডিকেট সুহেল মোল্লাকে নিয়ে একসাথে কেনেটকে মেরে ফেলার জন্য তার খামারে হামলা চালায়। তারা কেনেটকে না পেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খামারের পরিচালক মধু দং এর ঘরে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা মধু দং এর কন্যা সাংমি দংকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে রেখে যায়। এসময় তারা একটি অবৈধ অস্ত্র লাশের পাশে রেখে জোড় করে মধু দংকে দিয়ে কেনেটের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও ধর্ষণপূর্বক হত্যা মামলা করায়। পরে বেশকিছুদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি জায়গায় আত্মগোপনে থাকার পর বন্ধুদের সহযোগীতায় দেশ ছাড়ে কেনেট।
কালিগঞ্জ থানা সূত্রে জানাগেছে, কেনেটের নামে বর্তমানে ধর্ষণ, খুন ছাড়াও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ, যা আদালতে গৃহীত হয়েছে। এছাড়া অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়া কেনেটের ছোট ভাই কলিন্স এসেনসন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
এমতাবস্থায় কেনেটের মা সুসমা মিরসিলা এসেনসন একাকী দুই ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদিকে কেনেট ও তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি খামারের জায়গা ও ফসলি জমিগুলো দখল করে নিয়েছে সুহেল মোল্লা। এছাড়া তাদের বাড়ির জায়গা একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ্ সম্পত্তি বলে কেনেটের মাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে। তাই দুই মেয়েকে নিয়ে আতংকে দিন কাটছে তাদের। পরিবারের এমন দুরবস্থার মধ্যেও মামলায় গ্রেফতার ও প্রাণের ভয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না কেনেট স্টিফেন এসেনসন।

শেয়ার করুন