জীবন যেখানে যেমনঃ

প্রকাশিত

সেতারা কবির সেতু : করোনার সময় প্রথম ৩ মাস আমরা ঢাকাতেই ছিলাম।৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা পজিটিভ রোগী সনাক্ত হয়।লক ডাউনের শুরুতে বা লক ডাউনের আগেই অনেকেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আসে।

সেই সময় আমরা গ্রামের বাড়িতে আসিনি। ভেবেছি এখানেই থাকি।এখানেই থাকাটা বেশি নিরাপদ।কিন্তু দিন দিন পরিস্হিতি খারাপ হতে থাকে।ঢাকায় সবাই বাসার মধ্যে বন্দী। একদম প্রয়োজন ছাড়া দরজা খোলা হয়না। প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে ফোনের মাধ্যমে একে অপরের খোঁজ খবর নিতাম।বাচ্চারা ও কেমন নিশ্চুপ হয়েছিল একটি বারের জন্যও কেও বলেনি দরজা খুঁলে দেও ছাদে যাব।বিকেল বেলা বারান্দায় মানুষ দেখা যেত।ছাদে মানুষ তেমন যেত না।কারন ছাদেতো আর এক ফ্যামিলির মানুষ উঠবে না।অন্য ফ্যামিলির মানুষ ও আসবে।

মানুষ কতোদিন বন্দী থাকতে পারে।ঘরে বন্দী থাকা মানুষের জন্য কষ্টকর।প্রথম কিছুদিন ঘরে বন্দী থাকতে খারাপ লাগেনি।কিন্তু যতো দিন যায় ততোই খারাপ লাগতে শুরু করে।শুধুমাত্র কবির বাজার করার জন্য মীনা বাজারে যেত।সেই বাজার ভিনেগার দিয়ে ভিজিয়ে রেখে প্রসেসিং করতে আমার ৩/৪ ঘন্টা লাগতো।আশেপাশের বাসা থেকে চিৎকার শোনা যেত।বুঝতে পারতাম এই সময়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব বেড়েছে দ্বিগুন।

টিভিতে নিউজ দেখলে আরোও খারাপ লাগতো।বই আর ইন্টারনেট ছিল আমাদের সঙ্গী।কোন কিছুতেই শান্তি পাওয়া যাচ্ছিল না।মনে হচ্ছিল আমরা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্হায় দিন কাটাচ্ছি।অসুস্হ হওয়ার আগেই যেন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

অবশেষে ঈদের পর আমরা গ্রামের বাড়িতে আসি।এসে দেখি এখানকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।আমরা স্বেচ্ছায় ১৫ দিন গৃহবন্দী থাকি।কিন্তু খুবই অবাক হয়েছি গ্রামের লোকজন আসতেছিল আমাদের সাথে দেখা করতে,কথা বলতে।কবিরের কঠোর নির্দেশে বাড়ির কেও বাহিরে যেতে পারেনি এবং বাহিরের কেও বাড়িতে আসতে পারেনি।আত্নীয় স্বজন অনেকেই আমাকে ফোন দিয়েছে আমরা বাড়িতে যাওয়ায় তারা আমাদের বাড়িতে আসতে চায়।আমি নিষেধ করায় এক প্রকার মন খারাপ করে।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনো করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানেনা। তারা বুঝতেও চায় না সচেতন না হলে কি হতে পারে।অধিকাংশ মানুষের কথা করোনা শহরে হয়েছে গ্রামে হবে না।তাদের এমন চিন্তা দেখে আমি বিস্মিত। গ্রামের জীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তারা সারাদিন কাজ করে।রাতে শান্তির ঘুম দেয়।পরের দিন কি,কি কাজ করবে তার তালিকা করে।ঢাকায় থাকার সময় আমার মনে হয়েছিল গ্রামের মানুষ হয়তো অনেক কষ্টে আছে।কিন্তু আমার ধারনা ভুল। এরা অনেক ভালো আছে।বরং ঢাকা শহরের হাজার হাজার মানুষ অনেক কষ্টে আছে।

দিন দিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশে ১ লাখ ছাড়িয়েছে।আমরা কেও নিরাপদ নয়।পরিচিত অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে। বিষয়টি খুব দুঃখজনক। কিন্তু আশার কথা অনেকেই সুস্হ হচ্ছে।প্রার্থনা করি আল্লাহ সবাইকে সুস্হ রাখুন, নিরাপদে রাখুন। আমিন।

২০/৬/২০২০

শেয়ার করুন