জাতীয় যুব দিবস আজ

প্রকাশিত

ডেস্ক প্রতিবেদন : আজ (রোববার) ১ নভেম্বর, জাতীয় যুব দিবস। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জেগেছে যুব, জেগেছে দেশ-লক্ষ্য ২০৪১ এ উন্নত বাংলাদেশ।’ দিবসটি উপলক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে।

সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষিত সকল যুবক ও যুবমহিলাদের মধ্য হতে আত্মকর্মসস্থান প্রকল্প স্থাপনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১২ জন সফল আত্মকর্মী ও তিনজন সফল যুবসংগঠকসহ মোট ১৫ জনকে এ বছর জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হবে।

আরিফ খান দেশের পরিবর্তিত আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় যুবনীতি ২০০৩ হালনাগাদ ও যুগোপযোগীকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় যুবনীতি ২০১৫ বর্তমানে চূড়ান্তকরণের পর্যায় রয়েছে।

যুবসমাজ ও যুবসংগঠনসমূহের দীর্ঘদিনের দাবিপূরণের লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে যুবসংগঠনসমূহের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে আইনও প্রণীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রটিকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের যুব সমাজের অমিত সম্ভাবনাকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ‘জাতীয় যুব দিবস ২০১৫’ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দেশের যুবসমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, যুবরা দেশের প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের প্রধান কারিগর। ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৯৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ মহান মুক্তিযুুদ্ধে দেশের যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বয়স্ক ও নির্ভরশীল জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন যুব ও তরুণ সমাজ। বাংলাদেশের জনংসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুব যা দেশের বিশাল সম্পদ। তাই যুবদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস যুবদের কর্মতৎপরতা, মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে আসীন হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করলেও স্বাধীনতার কাক্সিক্ষত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তার সেই স্বপ্নপূরণে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘ভিশন ২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। জাতির লক্ষ্য ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করতে সক্ষম হবে। এ প্রেক্ষাপটে এ বছর জাতীয় যুব দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘জেগেছে যুব, জেগেছে দেশ; লক্ষ্য ২০৪১-এ উন্নত বাংলাদেশ’ যথার্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল হামিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের যুবসমাজ একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে, জাতীয় যুব দিবসে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুব। এরাই জাতির প্রাণশক্তি, দেশের মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার মূর্ত প্রতীক। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশব্যাপি ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্নমুখি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যুবদেরকে যুব উন্নয়ন অধিফতর ও কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে এক লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে বিদেশ গমনেচ্ছুরা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অভিবাসী ঋণ এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসার পর ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে পুনর্বাসন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় এ পর্যন্ত ৮১ হাজার ৩৫৫ জনকে দুই বছর মেয়াদি অস্থায়ী কর্মে নিযুক্ত করা হয়েছে।

জিডিপির অব্যাহত প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি, এমডিজি অর্জনে সাফল্য, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের যুবসমাজের অদম্য কর্মস্পৃহার কারণে আমাদের প্রতিটি অর্জন সম্ভব হয়েছে- মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, বিপুল প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত যুবসমাজ তাদের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে কাঙ্ক্ষিষত লক্ষ্যে নিয়ে যাবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করবে।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় যুব দিবস ২০১৫ উপলক্ষে দেশের যুবসমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

শেয়ার করুন