জনগণকে ঠকিয়ে, প্রতারণা করে যেসব শয়তান, তাদের বিচার চাই

প্রকাশিত

আব্দুন নূর তুষার : জেকেজি হেলথ কেয়ার।

কি? বলেছিলাম? মনেআছে?

এপ্রিলের ১৩ তারিখে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম এরা যে সন্দেহজনক সেটা বলে।

এরপর ক্ষীপ্ত হয়ে আমার নাম উল্লেখ না করে জেকেজির সাবরিনা আরিফ চৌধুরী আমার নামে তার স্ট্যাটাসে বিষোদগার করেছেন। মে মাসের ২৩ তারিখে তিনি স্ট্যাটাস দিয়ে জেকেজির পক্ষ হয়ে কথা বলেছেন।

এখন তিনি অস্বীকার করছেন যে তিনি এসবের সাথে নাকি নাই। একমাস আগেই নাকি ছেড়ে দিয়েছেন। মে মাসের ২৩ এ স্ট্যাটাস দিলে আজ কয় তারিখ? একমাস আগে কেমনে জেকেজি ছাড়লেন?

তার স্ট্যাটাসের স্ক্রীণশট কমেন্ট বক্সে আছে।

জে কে জি র নাম দিয়ে নারায়নগঞ্জে একাধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন সাব্রিনা। যেখানে আর কোন ডাক্তারের নাম ছিল না। এখন তিনি এমন ভাব করছেন যে তিনি কোভিড টেস্ট এর প্রতারণার কিছুই জানতেন না।

২০১৬ থেকে এটার সাথে থেকে, এটার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবী করে হঠাৎ সব ছেড়ে দিয়ে সাধু হবার কি কারন?

শুধু তাই না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি আবুল কালাম আজাদ তাদের ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষন দেখার জন্য একবার তিতুমীরে কলেজে গেছেন আবার পরে তাদের বুথ দেখতেও গিয়েছিলেন বলে শুনেছি। তিতুমীরে যাবার ভিডিও আছে। তারা ইউটিউবে স্যাম্পল কালেকটর খুঁজছেন সেই ভিডিও ও আছে

অথচ তিনি এখন পর্যন্ত কোন করোনা হাসপাতাল তো দুরের কথা , গত ছয় মাসে কোন হাসপাতাল ভিজিট করেন নাই। সিএমএইচে গিয়ে নিজের নাকে ক্যানুলা ভরেছিলেন।

আর বের হয়ে বলেছেন করোনা তিনবছর থাকবে।

এরা নাকি করোনা টেস্ট করার নামে নমুনা ফেলে দিয়েছে আর ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে। মানুষের সাথে এমন প্রতারণা করার সুযোগ তাদের দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিনামূল্যে এদের পিপিই দিয়েছে যখন সারাদেশে চিকিৎসকরা পিপিই পায় না।

সাবরিনা সরকারী চাকুরি করে এনজিও খুলতে পারে আর সেটা দিয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে সে চাকুরী করে তার কাছ থেকে সুবিধা নিতে পারে কি?

অ্যাডহক চাকুরীতে যোগ দিয়ে সে নাকি সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা দিয়েছিল। পিএসসি তার ফল বাতিল করেছিল? তাই যদি হয় তবে এই অনৈতিকতার জন্য তার বিরুদ্ধে ডিজি অফিস কি কোন ব্যবস্থা নিয়েছিল?

অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জেকেজিকে নিয়োগ দেয়ার জন্য এই ডিজির কি শাস্তি হওয়া উচিত না? করোনাকালে রোগীদের ঠকিয়ে লুটপাট করার সহায়ক ডিজি নিজেই দুর্নীতির মহান পৃষ্ঠপোষক।

কোন মনিটরিং ছিল না কেন?

কারা মনিটরিং করেছে?

এটা এক বিরাট দুর্নীতি।

শুধু তাই না, তাদের এই ভুয়া কাজ আমাদের করোনা রোগী সম্পর্কে সব ডাটাকে ভুল করে দিয়েছে কারন তাদের ভুয়া টেস্টের মধ্যে কি রোগী ছিল না? ছিল? সেই রোগীর তথ্য ভুয়া টেস্টে হারিয়ে গেছে। পজিটিভকে নেগেটিভ বলে রোগ ছড়াতে দিয়েছে।

এই রোগীদের তথ্য কোথাও প্রতিফলিত হয় নাই। আমাদের সকল তথ্য এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। ছি! কি নির্লজ্জ এরা।

পড়েন আমার এপ্রিলের ১৩ তারিখের স্ট্যাটাস।

জনগণকে ঠকিয়ে, প্রতারণা করে আমাদের দেশকে, ও সরকারকে এভাবে বিব্রত করছে যেসব শয়তান, তাদের বিচার চাই।

https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1664682/

https://sarabangla.net/post/sb-439163/…

—————————

এপ্রিলের ১৩ তারিখে লিখেছিলাম…. পড়েন

জেকেজি হেলথকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুরু করেছে বুথ বসিয়ে স্যাম্পল কালেকশন। তারা বলেছে তারা কোরিয়ান পদ্ধতিতে টেষ্ট করবে।

যে প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে তাদের কখনো এধরনের অভিজ্ঞতা ছিল না। এর কাজ ছিল , প্রতিষ্ঠাতার নিজের বাড়ীর আশে পাশে / নির্বাচনী এলাকায় রোগী দেখার জন্য এক ডাক্তার বিশিষ্ট হেলথ ক্যাম্প করা।

কখনো ভাইরাল স্যাম্পলতো দুরের কথা , মলমুত্র স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষাগারে দেয়ার কোন প্রকল্প এরা করেন নাই।

যিনি এই কাজ করবেন তিনি কার্ডিয়াক সার্জন। দেশে এত এত এপিডেমিওলজিস্ট/ ভাইরোলজিস্ট থাকতে তাদের এই কাজে কাউকে সম্পৃক্ত করা হয় নাই।

শুধু তাই না. ডিজি নাকি সেখানে ঝটিকা সফর করেছেন। ১২ এপ্রিলে। তাদের প্রশিক্ষন ক্যাম্প কোথায়? তীতুমীর কলেজে। যাতে ডিজি সাহেব *ঝটিকা*রাস্তা পার হয়ে সেখানে যেতে পারেন। লকডাউনের মধ্যে তারা কিভাবে কাদের প্রশিক্ষন দিলেন?

অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি না দিয়ে এদের অনুমতি কেন দেয়া হলো?

যেসব জায়গায় আরটিপিসিআর মেশিন আছে সেখানেও অনুমতি না দিয়ে এদের অনুমতি দেয়ার মানে কি?

এরা এখন ইউটিউবে ভিডিও দিয়ে ভলান্টিয়ার খুঁজছে। তারা স্যাম্পল কালেকশন করবে।

কয়েকদিন আগে মীরজাদি ফ্লোরা আপা ব্যাখ্যা করেছেন কেন তারা আরটিপিসিআর ছাড়া কোন টেস্ট করতে দিচ্ছেন না। তিনি এটাও বলেছেন যে বেসরকারী পর্যায়ে কিট আমদানী করে টেস্ট করলে ফলস নেগেটিভ হবে।

তাহলে এই কোরিয়ান মডেলে ওয়াক ইন টেস্ট কিভাবে হবে? কোন পদ্ধতিতে?

ভাইরাল স্যাম্পল কালেকশন কি এত সোজা? যাদের অভিজ্ঞতা নেই তারাও পারবে?

ভাইরাল স্যাম্পল কালেকশনের যে গাইডলাইন সেটা মেনে কি তারা স্যাম্পল পরিবহন করবে। কোন যানবাহনে করবে? সেটfর সেফটি গাইডলাইন কি?

কোরিয়াতে যে বুথ আর কেরালায় যে বুথ, সেটার সাথে এই ডেকোরটর দিয়ে সামিয়ানা খাটিয়ে বানানো বুথের কোন মিল আছে?

ফেসবুকে এদের ফলোয়ার ২০১৬ সাল থেকে শুরু করে এখন ২৮৫ জন।

করোনাভাইরাস নিয়ে এখনো ডিজি অফিসের রহস্যময় কাজকর্ম বন্ধ হচ্ছে না।

মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে তারা ডাক্তারদের সাময়িক বরখাস্তের নাটক বানিয়েছে।

মানুষকে ব্যস্ত রেখেছে একদিকে আর অন্যদিকে বিনামূল্যে টেস্ট নাম দিয়ে ভাইরাস ভালো করে ছড়ানোর ব্যবস্থা করেছে।

শেয়ার করুন