কড়া নিরাপত্তায় ফিরোজায় ফিরলেন খালেদা

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া প্রহরায় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর আগে, বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের ভিড়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কচ্ছপগতিতে গুলশানের দিকে রওয়ানা দেয়। গাড়িবহর ঘিরে নেতাকর্মীরা হেঁটে এগুতে থাকেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে আসা দলের নেতাকর্মীদের চাপে বিমানবন্দরের সামনের রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরের প্রবেশপথে কোনো নেতাকর্মীকে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে দলটির নেতাদের। নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তায় সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। স্বল্পসংখ্যক যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে এসে পুলিশের এই আচরণের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘হাজার হাজার নেতাকর্মী এখানে এসেছেন খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে। কিন্তু পুলিশ কোনো জায়গায় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়াতে দেয়নি। এটাই প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের মৌলিক অধিকার নেই।’

‘গণতন্ত্র না থাকলে যে সহিষ্ণুতাও অনুপস্থিত হয় তা এই আচরণে স্পষ্ট হল’ এমন অভিযোগ করেন তিনি।

কড়া নিরাপত্তা নিয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর দেশের এক নম্বর কেপিআই। সিভিল এ্যাভিয়েশন থেকে যাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি আছে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতটুকু করা দরকার তাই করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে চাইলেও পুলিশ সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ইচ্ছে করেই তারা ঝামেলা পাকাতে চেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ধরনের আচরণ করছে তাতে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বিদেশগামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ভেতরে যেতে অনুমতি দিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে বেশ অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককে।

বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর প্রধান সড়কে উঠলেই আশপাশে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যারিকেড ভেঙে ছুটে ‘প্রিয় নেত্রীর’ গাড়ির কাছে যান। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে দুই পাশে অবস্থান নেয়। খালেদা জিয়ার আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম বলে স্লোগানে দিতে থাকেন। খালেদা জিয়া গাড়ির গ্লাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিনন্দনের জবাব দেন। পরে ধীরগতিতে গুলশানের দিকে গাড়ি রওয়ান হয়।

এদিকে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশান পর্যন্ত ছিল পুলিশের কড়া সতর্ক প্রহরা। কাওলা, খিলক্ষেত, বনানীতে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়।

দলীয় প্রধানকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আসেন— ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, ফজলুল হক মিলন, গোলাম আকবর খন্দকার, আসাদুজ্জামান রিপন, এ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

এ ছাড়াও ছিলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুস সালাম আজাদ, শাহজাদা মিয়া, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, শাম্মী আখতার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল মজিদ, মাহবুব আল আমীন ডিউ, শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান, ছায়েদুল আলম বাবুল প্রমুখ।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেন তিনি। প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তার চোখ ও পায়ের চিকিৎসা নিয়েছেন।

শেয়ার করুন