কোরবানীর ভার্চুয়াল হাটেও নজরদারি বাড়ানো দরকার

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: আসন্ন কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত পশুর হাটে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কোরবানী উপলক্ষে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় গড়ে ওঠা অনলাইন পশুর হাটে যাতে কোনো প্রতারণার ঘটনা না ঘটে সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকা এবং অনলাইনে ভূয়া ব্যবসায়ী ও প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাটসহ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলাপরিস্থিতি’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব দাবি জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত¡ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যাপন ও অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যার্নাস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআইর প্রাক্তন সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, ডিসিসিআই সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন প্রমূখ সংযুক্ত ছিলেন।

কোরবানি ঈদ স্থানীয় কৃষি ও প্রাণি সম্পদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জানিয়ে স্বাগত বক্তব্যে শামস মাহমুদ বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে সরকার সীমিত আকারে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি, কোরবানির পশু পরিবহন, হাটে জাল নোট বন্ধে তৎপরতা, অতিরিক্ত হাসিল বন্ধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনিকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা খুবই জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীসমূহ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ শুরু থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সীমিত পরিসরে স্থাপিত কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, তবে এ বিষয়ে সাধারণ জনগণের জনসচেনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, করোনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ২.২ শতাংশ কমে যেতে পারে, এর ফলে আমাদের দেশে স্থানীয় বাজারে চাহিদা, বৈশ্বিক রফতানি এবং প্রবাসী আয় কমে গেলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতির পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলাপরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিনি আসন্ন পবিত্র ঈদুল আয্হায় কোরবানির পশুর হাটসমূহে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নজরদারি বাড়ানো এবং অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

গতবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার কোরবানির পশু ও কাঁচা চামড়ার বাজার ছিল জানিয়ে শাহীন আহমেদ বলেন, তিনি এবছরের পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কার্যক্রম জোরদার এবং সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোরারোপ করেন এবং বিশেষ করে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকলকে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যবৃন্দকে আরও মনোযোগী হওয়ার আহŸান জানান।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে যাদের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ অনলাইনের কেনাবেচা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল জানিয়ে শমী কায়সার বলেন, তবে করোনায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি আসন্ন কোরবানির ঈদে অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য ‘ডিজিটাল হাট’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য সকলের প্রতি আহ্ববান জানান। অনলাইনে ভূয়া ব্যবসায়ী ও প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্ববান জানান তিনি।

শেয়ার করুন