করোনা বুলিটিনঃ ব্রেকআপ!

প্রকাশিত

মানিক মুনতাসির : বাবা তুমি মার সাথে কথা বলছ না কেন? মা তো রাগ করেছে। তুমিও কি রাগ করেছ, তোমাদের কি ব্রেকআপ হয়ে গেছে! এটা আমার ছেলের জিজ্ঞাসা। কয়েক দিন আগের। ওর বয়স সাড়ে সাত বছর। অত্যাধুনিক যুগের ডিজিটাল ছেলেমেয়েরা আসলে অনেক এগিয়ে। তার আরো অনেক প্রমান আছে।

দেশের সর্বত্র এখন করোনা ছাপিয়ে মেজর সিনহা নিহতের খবর। দীর্ঘদিন ধরে করোনার খবরে সবাই একগুয়ে হয়ে গিয়েছিল। এটার একটা ব্রেকআপ দরকার ছিল। কিন্তু মেজর সিনহা নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে এমন ব্রেকআপ কারোরই কাংখিত ছিল না। হয়তো পুলিশও চায়নি এমন ব্রেকআপ। হয়তো পুলিশ সদস্য লিয়াকত কিংবা ওসি প্রদীপও এমনটি চাননি৷ কিন্তু ঘটে গেছে। এটা হতে পারে পরিকল্পিত। আবার দার্ঘটনাও হতে পারে। তবে কাম্য নয়। কোনভাবেই। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া জরুরি। ঝালকাঠির লিমনের কথা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাইনি। আজও কানে বাজে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামের মেয়ের কান্নাজড়িত কন্ঠ। “বাবা তুমি কাঁদছ যে” দোয়া করি একরামের সেই মেয়ে বিচারক হয়ে বাবা হত্যার বিচার করুক। হোক না সেটা যুগ যুগ পর।

মেজর সিনহার ঘটনা হতে পারে কারো পাপের ফসল। টেকনাফে হয়তো পাপ বেশি করে ফেলেছিলেন ঐ ওসি। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। তরতাজা একটা যুবককে এভাবে প্রাণ দিতে হলো। যা মেনে নেওয়া কঠিন। সভ্য কোন দেশে ক্রসফায়ার হয়তো নেই। এ দেশেও মেজর সিনহাই হোক সর্বশেষ ক্রসফায়ারের শিকার। আর একটি বুলেটও যেন খরচ না হয় এমন কথিত বন্দুক যুদ্ধে।

এদিকে কাল থেকে করোনাভাইরাসের আপডেট দিতে স্বাস্থ্য বুলেটিন আপাতত আর প্রচারিত হবে না। হ্যাঁ এমন বুলেটিনের প্রয়োজন কতটুকু সেটাও বিবেচ্য। যেখানে শুধু মুখস্থ গদবাধা কিছু তথ্য রেগুলার জানানো হয়। অথচ টেস্ট বাড়ে না। যদিও সংক্রমন বাড়ছে। ফলে এই একগুয়ে ব্রিফিংটার ব্রেকআপটা আপনি না মানলেও আমি কিন্তু মানি।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

শেয়ার করুন