করোনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সিএমএসএমই খাত অবহেলিত : এফবিসিসিআই

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চলমান করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতির ক্ষতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাত অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে দাবি করে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেছেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নে যেসব ব্যাংক সহযোগিতা করবে না সেগুলো থেকে সরকারি আমানত তুলে নেয়ার প্রস্তাব করেছি। পাশাপাশি যারা সহযোগিতা করছে তাদের ট্যাক্সের সুবিধা দেয়া ও আমানত বাড়িয়ে দেয়া যায় কি-না তা বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি। গতকাল শনিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

সরকারের কিছু কর্মকর্তা ও পরামর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এসব কর্মকর্তা ও পরামর্শক সরকারের কাছ থেকে টাকা নিলেও সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেননি অথবা করেননি। কর হার কমিয়ে আওতাও বাড়ানো হয়নি। বরং এখন নতুন নতুন জটিলতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এক শতাংশের জন্য বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের ভুক্তভোগী হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবারের বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) বিষয়ে কিছু বিধির বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, ব্যবসায়ীরা ওই সব বিধান নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট রেয়াত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা, উচ্চপর্যায়ের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নথিপত্র জব্দ করার সুযোগ, ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তিতে মামলার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বদলে ২০ শতাংশ অর্থ জমা, টেলিযোগাযোগে ৫০ শতাংশ জমা দিয়ে সালিসে যাওয়া এবং তার ৩০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রণোদনা হিসেবে পাবেন বলে বিধি করা ইত্যাদি। তিনি বলেন, এ ধরনের আরও ধারা আছে যেগুলো প্রক্রিয়াকে জটিল করবে। স্বচ্ছতা ব্যাহত করবে। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে। এটি স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস, কর-ভ্যাট নীতির পরিপন্থী, যা বাস্তবায়নের জন্য টাকা বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দিয়েছে।

সিএমএসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড মন্তব্য করে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এখানে প্রায় ৮৪ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ। গত ১০ বছরে অনেকগুলো ব্যাংক এসেছে। তাদের বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপে নিয়ে আশা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কাছে যেতে পারিনি। আবার এ খাতের উদ্যোক্তারাও ব্যাংকিং চ্যানেলে যায় না। কারণ তারা বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বাকিতে ক্রয় করে পণ্য বিক্রি করে ওই টাকা শোধ করেন। তাদের ব্যাংকে যেতে হয় না। যে কারণে বড় একটা অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক রয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক রয়েছে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আকারে নিয়ে আসা। আগামী তিন বছরে এ কাজ করতে হবে। তবে তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। এ খাতে এখন খরচ বেশি হলেও আগামীতে গ্রাহক বাড়লে খরচ কমে যাবে। এ জন্য সিএমএসএমইতে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। প্রণোদনা ঘোষণার পর এফবিসিসিআই সরকারকে অনুরোধ করে ব্যাংক কোনোভাবেই যেন চাপে না পড়ে, ব্যাংকের তারল্য, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বলে বাংলাদেশে ব্যাংকের প্যাকেজের বেশিরভাগ সিএসএমই ৯৯ শতাংশ ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের বাইরে। বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঋণ প্রক্রিয়া সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এবারের বাজেটকে একটি মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট ঘোষনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রণোদনার বিষয়ে একটি শ্রেণি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথে বাধা সৃষ্টিকারক ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান নিশ্চয়ই আছে। ব্যাংকের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক যে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে স্ব-উদ্যোগে এগিয়ে আসছে। কোনো ইচ্ছাকৃত খেলাপি ও ঋণ কেলেঙ্কারির হোতাকে টাকা দেওয়ার সুপারিশ এফবিসিসিআই করবে না। আর ব্যাংকের ঋণ যাতে আদায় হয়, সে ক্ষেত্রে নানা ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, রাজস্ব নীতির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বসে বসে দুষ্টমি করে প্যাঁচ মারে। এ প্যাঁচগুলোর মধ্যে কী থাকে তা জানি না তবে এগুলো ধরতে সময়লাগে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী মানুষকে সহযোগিতা করার কথা বলছেন। এ ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। দেশের অধিকাংশ মানুষ এটার সঙ্গে জড়িত। সেখানে ভ্যাটের বিষয়ে সহজ না করে নতুন নতুন জটিলতা ঢোকানোর কোনো যুক্তি নেই।

শেয়ার করুন