করোনায় বদলে যাচ্ছে ভারতীয় সংসদের চেহারা

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক:গোটা বিশ্বের চিত্র পাল্টে দিয়েছে ক্ষুদ্র এক জীবাণু করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত আট লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ নিয়েছে এই ভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছেন আড়াই কোটির কাছাকাছি।

এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে না আসলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মহামারি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই মেনে চলতে হবে এই স্বাস্থ্যবিধি (যেমন-বাইরে বের হলে মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা)।

তাই মহামারি করোনার প্রভাব পড়েছে গৃহ থেকে শুরু করেছে আইনসভা পর্যন্ত। করোনা বদলে দিচ্ছে ভারতীয় সংসদকেও। এই প্রথম সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সংসদে বসবেন সংসদ সদস্যরা।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে বলছে, ১৯৫২ থেকে এ পর্যন্ত কখনো এই দৃশ্য দেখেনি ভারতীয় সংসদ। রাজ্যসভা বা লোকসভার অধিবেশন এতদিন হয়েছে তাদের জন্য নির্দিষ্ট অর্ধচন্দ্রাকার কক্ষে।

কিন্তু এই প্রথম সেই অধিবেশন কক্ষের বাইরেও বসতে হবে সংসদ সদস্যদের। লোকসভা ও রাজ্যসভার গ্যালারিতেও সাংসদরা বসতে পারেন। তাদের বসতে হতে পারে সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে বা অন্যত্র।

ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুসারে, ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন ডাকতে হবে। কারণ, দুটি অধিবেশনের মধ্যে ব্যবধান ছয় মাসের বেশি হতে পারবে না। এর আগে বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছিল ২৩ মার্চ।

তাই ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে সংসদকে। সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে বা তৃতীয় সপ্তাহে এ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। ওই সময় করোনার প্রকোপ যথেষ্ট থাকবে।

ফলে সংসদ সদস্যদের মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের বিধি। লোকসভা, রাজ্যসভা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের চেম্বার, রাজনৈতিক দলের অফিস, লাইব্রেরি স্যানিটাইজ করার ববস্থা করা হচ্ছে।

লোকসভা ও রাজ্যসভায় এখন রীতিমতো ঠাসাঠাসি করে বসেন সাংসদরা। ফলে সামাজিক দূরত্বের বিধি মানতে হলে লোকসভা বা রাজ্যসভায় সাংসদদের বসার জায়গা অন্ততপক্ষে এক তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি কমাতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমস্যার সমাধান করতে লোকসভার স্পিকার, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং সংসদে কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন, প্রচুর আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কথা হয়েছে।

তবে স্পিকার, চেয়ারম্যান বা সরকারের তরফ থেকে এখনো কিছু জানানো না হলেও, যে পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে তা হলো-লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন প্রতিদিন চার ঘণ্টার জন্য বসবে।

সকাল নয়টা বা সাড়ে নয়টায় রাজ্যসভার অধিবেশন বসলে সেই অধিবেশনে রাজ্যসভা, লোকসভা ও সেন্ট্রাল হল মিলিয়ে সংসদ সদস্যরা বসবেন। পরে একটা থেকে দেড়টার মধ্যে অধিবেশন শেষ হবে।

তারপর দেড় ঘণ্টা সময় আবার সংসদ স্যানিটাইজ করা হবে। এরপর বিকেল তিনটা থেকে আবার লোকসভার অধিবেশন বসবে।

দ্বিতীয় বিকল্প হলো-রাজ্যসভার অধিবেশন রাজ্যসভাকক্ষ ও সেন্ট্রাল হলে হবে। আর লোকসভার অধিবেশন লোকসভা কক্ষ ও বালয়োগী অডিটোরিয়ামে। এজন্য প্রতিটি জায়গায় বিশাল স্ক্রিন, সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়েছে।

এমনকি প্রয়োজনে লোকসভা ও রাজ্যসভার গ্যালারিতেও যাতে সংসদ সদস্যরা বসতে পারেন, তার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা যা-ই হোক না কেন, এই প্রথম লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন দুই কক্ষের বাইরেও যাবে।

ব্যতিক্রমী এই অধিবেশনে সাবেক সংসদ সদস্যদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের যাদের স্থায়ী কার্ড আছে শুধু তারাই ঢুকতে পারবেন।

তবে লোকসভা গ্যালারিতে ১৫ জন ও রাজ্যসভা গ্যালারিতে সাতজন সাংবাদিক ঢুকতে পারবেন। সাংসদদের বলে দেয়া হবে, অধিবেশন হয়ে গেলে, তারা যেন দ্রুত চলে যান। তবে করোনার ভয়ে অনেক সাংসদ অনুপস্থিত থাকবেন, সেই সম্ভাবনাও প্রবল।

শেয়ার করুন