করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কম দামে পণ্য বিক্রি শুরু

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দেশবাসির জন্য বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এবার তিনটি পণ্য দিয়ে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। এগুলো হলো চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল। সরকারের নানামুখি উদ্যোগের ফলে চলতি সপ্তাহে আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে বলেও দাবি করে টিসিবি। সংস্থাটির মতে, গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে দেশি রসুনের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিসিবির পক্ষ থেকে এক কেজি মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম ধরা হয়েছে ৫০ টাকা, যা বাজারে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তীর ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি চিনি টিসিবি বিক্রি করছে ৫০ টাকা দরে, যা বাজারে ৬৯ টাকা কেজি। এ ছাড়া বাজারে খোলা চিনি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির ট্রাকে সেনা, পুষ্টি, তীর, বসুন্ধরা ও ভিওলা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দর ১০০ টাকার আশপাশে। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ২৬৪টি স্থানে টিসিবির পণ্য পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ট্রাক থাকছে ৪০টির মতো। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরে ১০টি, রংপুরে ৭টি, ময়মনসিংহে ৭টি, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট মহানগরে ৫টি করে ট্রাক থাকছে।

টিসিবি জানান, জেলা শহরগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে টিসিবির পণ্য। শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন এসব পণ্য বিক্রি হবে। একেকজন পরিবেশক দৈনিক ৬০০ থেকে ৭৫০ কেজি চিনি, ১৫০ থেকে ২০০ কেজি মসুর ডাল এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল পাবেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি চিনি, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ও এক কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ২৮ জুলাই পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

টিসিবির দেয়া তথ্যানুযায়ী, এক সপ্তাহে দেশি রসুনের দাম কমেছে ১০ শতাংশ। বর্তমানে এই রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। দেশি রসুনের পাশাপাশি দাম কমেছে আমদানি করা রসুনের। এক সপ্তাহে আমদানি করা রসুনের দাম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

টিসিবির দাবি, গত এক সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পোল্ট্রি মুরগির দাম ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা হয়েছে। ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা বিক্রি হওয়া লুজ সয়াবিন তেলের দাম ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের শুকনা মরিচের। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি শুকনা মরিচের দাম ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কমে কেজি ২১০ থেকে ২৬০ থেকে টাকা বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা শুকনা মরিচের দাম ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা। দেশি আদার দাম ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা আদার দাম ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দাম কমার তালিকায় থাকা আর এক পণ্য চিনি। গত এক সপ্তাহে চিনির দাম ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর ছোলার দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

শেয়ার করুন