করোনায় আক্রান্ত জেনে ঢাকা থেকে পালিয়ে গ্রামে যুবক

প্রকাশিত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আত্মগোপনে থাকা মহিউদ্দিন নামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাকে হেফাজতে আনে উপজেলা প্রশাসন। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তাকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস জানায়, উপজেলায় এখন পর্য়ন্ত ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠালে সবগুলোর রিপোর্টই নেগেটিভ আসে। কিন্তু শুক্রবার আইইডিসিআর থেকে আসা এক বার্তার মাধ্যমে জানা যায় ঘাটাইলে মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ঢাকার শেরে বাংলা নগর হাসপাতাল থেকে।

স্বাস্থ্য অফিস আরও জানায়, আইইডিসিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ওই রোগীর ঠিকানা বলতে শুধু নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর ছিল।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাইফুর রহমান খান জানান, বার্তাটি পাওয়ার পরপরই তার দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্ট করলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে জানা যায় তার বাড়ি উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ঘোনারদেউলি গ্রামে। তার বাবার নাম রুস্তম আলী।

আক্রান্ত রোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিন টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করে বাড়ি থেকেই কনফিডেন্স নামে একটি ইউনানী ওষুধ কম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি অবিবাহিত। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। এজন্য গত ৪ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ঢাকার শেরেবাংলা নগর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠান। একই সঙ্গে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু তিনি সেখানে ভর্তি না হয়ে পালিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তারপর থেকে যোগাযোগের ফোন নাম্বারটি বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঢাকা থেকে ফেরার পর মহিউদ্দিন গ্রামবাসী সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এমনকি ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতেও গিয়েছেন। এছাড়াও তিনি উপজেলার ছোনখোলা বাজারে তাওহিদ মেডিকেল থেকে নেবোলাইজিং (গ্যাস) মেশিন বাড়িতে নিয়ে গ্যাস নিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাওহিদ মেডিকেলের মালিক আবুল হোসেন বলেন, মহিউদ্দিন ব্যবহারের পর ওই মেশিন দিয়ে মাত্র একজনকে গ্যাস দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর গোপন করে বিভিন্ন স্থান ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। এজন্য ওই এলাকার ১২০টি পরিবার লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। রাতেই তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন