করোনার আড়ালে জঘন্য রাজনীতি -পর্ব- ০২

প্রকাশিত

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য : আবার বাবর রোডের এফ ব্লকের মাথায় রিং রোড সেটা পার হলেই আদাবর ১ নম্বর শুরু। এখানে অবাক ব্যাপার গুলো হচ্ছে, ফার্স্ট পার্টি মানে প্রবাসী যে মূল করোনার বাহক সে কিন্তু বেঁচে গেছে অথচ মরেছে সেকেন্ড পার্টি। আবার সেকেন্ড পার্টি যে থার্ড পার্টিকে ছড়িয়ে গেছে সেই থার্ড পার্টি ও সুস্থ হয়ে বেঁচে আছে এভাবে এক জেনারেশন গ্যাপ করে মারা গেছে পরের জন। এভাবে করোনা ছড়াচ্ছে ভয়াবহ গতিতে।

এভাবে ছড়ানোর ব্যাপারটা এখন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জানে কিন্তু তারপরেও নেই তাদের সামান্যতম আক্রান্তের ভয়! যেখানে যে সব বাসা / বিল্ডিং টোটাল কোয়ারেন্টিন বানানো হয়েছে তার আশেপাশে যথারিতি পুলিশ ১ মিনিটের জন্য চোখের আড়াল হলেই জটলা পাঁকিয়ে উঁকিঝুঁকি মারার অদম্য চেষ্টা অব্যাহত থাকছে।

এ তো বল্লাম শুধুমাত্র ঢাকা শহরের এক ছোট এলাকার লোকদের কথা, এই চরিত্র তো সারা বাঙালী জাতির অরিজিনাল চরিত্র। সারা দেশে ঠিক এভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছে করোনা বাহকেরা। এই অসভ্য বর্বর বাঙালী জাতির ভাব খানা এমন যে, করোনা তেমন কোন ভয়ানক কিছু নয় বরং এটা ব্লাডের মতো ডোনেট করা গেলে ক্ষতি কি? সে কারণেই হয়তো সারা দেশ ব্যাপী একজন অন্যজনের শরীরে করোনা ভাইরাস ডোনেট করার জন্য মরিয়া হয়ে সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে, সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে দেদারসে ঘুরে ঘুরে সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে!

এবার আসি রাজনীতিতে, আমি আগেই বলেছি মোহাম্মদপুরের আটকেপরা পাকিস্তানিদের কথা কারণ এটা শতভাগ সত্যি যে, ঐ গুলোর মোটামুটি ৩ পুরষ বাংলাদেশের মাটি পানি বাতাস এবং পেট বাংলাদেশের টাকায় চললেও ওদের ভাষা কিন্তু এখনো উর্দু হিন্দি আর বাংলার জগাখিচুড়ি টাইপ ভাষায় কথা বলে।

এরা এখনো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা হয়ে বাংলাদেশে জেঁকে আছে। তারসাথে এদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কিছু জামাতী আর কিছু বিএনপি ঘরানার। তাই বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ কে খুব একটা তোয়াক্কা ও করেনা। কিন্তু এদের টাকা পয়সার খুব একটা কমতি নেই শুধু কমতি আছে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার। নোংরা নর্দমা ঘিঞ্চি ঘর স্যাঁতস্যাঁতে দুর্গন্ধের মধ্যে থাকাই যেন ওদের আনন্দ।

তেমন আনন্দ মানুষের ক্ষতি করা, পরিবেশ উতপ্ত করা, মিথ্যে বলে রিউমার ছড়ানো ইত্যাদি ইত্যাদি। ঠিক যেমনটি সারা দেশের এই ভয়াবহ অবস্থাতেও বিএনপি জামাত নামের পাকিস্তানি প্রেতাত্মা গোষ্ঠী এখন সারা দেশে গুজব আর তাদের জঘন্য রাজনীতির চাল চালানোর মহোৎসবে মেতে উঠেছে!

আবার ঐসব নরাধম গোষ্ঠীর সাথে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগে টাকা দিয়ে পদ পদবী কেনা চেয়ারম্যান,মেম্বার, কাউন্সিলর, মেয়র।

যোগ হয়েছে গার্মেন্টস মালিক শ্রেণীর জন্মগত দূর্নীতিবাজ যারা শ্রমিকের ঘাম ঝড়ানো টাকায় একেকজন বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার মালিক এরা যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের লোক। যেহেতু গত ২ মেয়াদে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আছে তাই এখন এরা আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ! সরি টু সে, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী একজন প্রচন্ড ধুরন্ধর এবং মাফিয়া টাইপ মহিলা। উনি চোখ পাল্টানো আর পাল্টিবাজিতে নিজের ইউনিভার্সিটি আমল থেকেই প্রসিদ্ধ। তাঁর ইউনিভার্সিটি লাইফে সহপাঠীদের লাত্থি জুতা খেলেও পরবর্তীতে প্রয়াত আনিস সাহেবের সহধর্মিণী সহ বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট তার উপর বিজিএমইএর সভাপতি হওয়ার কারণে সে ইতিহাস এখন সবাই ভুলে গেছে। তবে ইনি যখন যে সরকার এসেছে তখন সেখান থেকে নিজের টা নিয়ে নিয়েছে।

করোনা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যখন টেনশনে ঘুম খাওয়া ছাড়ার উপক্রম, ঠিক তখনই গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে জঘন্য নাটক করলো! হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলে সরকার প্রধানকে ব্লাকমেল করে নিজেদের দিকটা বুঝে নিলো।

অন্যদিকে তার সাথে সুর মিলানো আরেক মহিলা যে কিনা বিজিএমইএর সভাপতি থেকেও আরেক ধাপ উপরে, এই মহিলা নাকি আবার সিআইপি অথচ মহিলার ফেসবুক লাইভে এসে কথাবার্তার ধরণ শুনলেই নিশ্চিত মনে হয় যে, এই মহিলা ব্যক্তি জীবনে একজন প্রশিক্ষিত পিম্প ছাড়া অন্য কিছু নয়। এই ধরিবাজ মহিলা ফেম পাওয়া বা নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ভাইরাল করার জন্য যে কোন ধরনের নোংরামো করতেও দ্বিধা বোধ করেনা।

এই মহিলাকে কখনো প্রয়াত এইচ এম এরশাদ, জীবন্ত খালেদা জিয়া,ফেরার তারেক রহমান, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, আওয়ামিলীগ এর সেক্রেটারি সহ সব মন্ত্রী এমপিদের সাথে স্বহাস্য বদনে ছবি ও দেখা যায়। এই মহিলা আবারো গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে নতুন কোন চক্রান্তের চেষ্টা করছে কিনা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

যা বলছিলাম, রাজনৈতিক খেলা হচ্ছে চতুর্মাত্রিক। খেয়াল করুন, দেশ করোনা আক্রান্ত হলো আদালত খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করলো। এদিকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ত্রাণ বিতরণে কাজ শুরু করলো, তখনই বাংলাদেশের মোট ৬১ হাজার ৫ শত ৭৯ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে মাত্র ৩০/৩৫ জন চেয়ারম্যান,মেয়র, কাউন্সিলর, মেম্বার, সেক্রটারী, সভাপতি পদধারী হায়েনারা সেই ত্রাণের সামগ্রী চুরির মহাযজ্ঞে মেতে উঠলো, সেই সাথে ভালো মেম্বার, চেয়ারম্যান যারা সরকার থেকে এই দূর্যোগের নামে কোন ত্রাণই তোলেনি তাদের কাছে পূর্ব শত্রুতার জের কে কাজে লাগালো আরেক শ্রেনীর সংবাদিক পদবীধারী কুলাঙ্গারদের।

এই সাংবাদিক কুলাঙ্গাররা প্রথমে টেলিফোনে এবং সরাসরি সেই সৎ চেয়ারম্যান / মেম্বারের কাছে চাঁদা দাবী করলো কিন্তু সেই ভালো লোকগুলো যখন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলো ওমনি টিভিতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভদ্র চেয়ারম্যান / মেম্বারদের ছবি প্রকাশ করে তাকে ত্রাণের চাল চোর বলে নির্লজ্জ প্রচার শুরু করলো। আর এটা সাথে সাথে ফেসবুক সহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ভাইরাল করলো কারা? হ্যা সেই চক্র যারা মন থেকে কোন দিন বাংলাদেশকে চায়নি। তাই বিগত বছরে মাসের পর মাস বাংলার মানুষকে পেট্রোল বোমার আগুনে জ্বালিয়ে মেরেছে, কখনো গলা কেটে/রগ কেটে মেরেছে।

প্রথমে করলো দেশ বিরোধী চক্র এবং তাদের সমমনারা তারপর সেই নিখুঁত সাজানো চালে খেলতে নেমে গেলাম আমরা দল মত নির্বিশেষে সবাই। কারণ বিষয়টা অতি মানবিক ব্যাপার “ত্রাণের চাল চোর” বলেই। সারা বিশ্বে প্রচার হলো শেখ হাসিনা ত্রাণ দেয় আর তার দলের নেতারা চুরি করে অর্থাৎ যার দান তার দলের ঘরেই যায়!অথচ এটা হচ্ছে এই সময়ে পৃথিবীর সব থেকে বড় মিথ্যে অপবাদ যা কিনা শেখ হাসিনা কে জড়িয়ে প্রচার হচ্ছে বহির্বিশ্বে।

অথচ তার আগে যে ধর্ম ব্যবসায়ী জামাত আর হেফাজতের ভন্ড মাওলানা নামধারীরা ওয়াজকারীরা শয়তানের দোসরেরা করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সত্যিটা না বলে উল্টো এখানেও মুসলমান হিন্দু খ্রিস্টান ইহুদী বলে বলে দিনের পর দিন বোকাসোকা মানুষ গুলোর মগজ ধোলাই করে, সকল প্রকার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দেশের মানুষকে রাস্তায় থাকতে উদ্ভুদ্ধ করে স্বাস্থ্য ব্যাবস্থায় ধ্বস তথা সারা দেশটাকেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সূচনা পান্তে ঠেলে দেয়া হয়েছিলো সেটা এই চোর চোর মামতে সবাই ভুলেই গেলো। মাঝখান থেকে যা ক্ষতি হওয়ার সেটা হয়ে গেলো।

যখন করোনা এবং ত্রাণ চোর নিয়ে দেশের এ হাল ঠিক সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ঢাকায় ধরা পরলো। এবং যথারীতি তার ফাঁসি কার্যকর ও হয়ে গেলো। কিন্তু এই দেশের অস্থির সময়ে কেন আত্মস্বীকৃত খুনি কোলকাতার পার্কস্ট্রিটের বিবাহিত আরেক স্ত্রী পরিবারকে ছেড়ে এবং গত ২৭ বছরের প্রতষ্ঠিত জীবন ফেলে এই সময়েই ঢাকায় আসতে হলো কেন! আবার কোলকাতা থেকে ঢাকা আসার মাঝখানের ১০/১২ দিন সময় অর্থাৎ এরেস্ট হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোথায় ছিলেন সেই তথ্যও কেউই জানেনা এবং খুনী নিজেও সেই দীর্ঘ সময়ের ব্যাপারে মুখ খুলেনি। তাহলে এখন প্রশ্ন একজন জলজ্যান্ত মানুষ কি করে মাঝখানের ১০/১২ দিন ভ্যানিস হয়ে থাকলো?

এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আজীবনের জন্য অমীমাংসিত রয়ে গেলো। তবে কঠিন কোন বড় অঘটনের ইঙ্গিতটা আমি মন থেকে মুছে দিতে পারবো না একেবারেই। এবার দেখুন একদিকে যখন চোর পাকড়াও শুরু হলো প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী কড়া নির্দেশে, তখন একদিকে বিজিএমইএর চলছে অন্য নতুন নাটক মঞ্চায়নের মহরা আরেকদিকে বিএনপি জামাত সম্মিলিত ভাবে টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভিক্ষুক লোক ভাড়া করে জরো করিয়ে করোনায় “কর্মহীন” সাজিয়ে ত্রাণ বঞ্চিত ধুয়া তুলে, এবং বিভিন্ন এলাকার ব্যাংক ম্যানেজারদের সাথে চুক্তি করে ভুয়া একাউন্ট খুলিয়ে সেই প্রধানমন্ত্রীর দানের টাকা আওয়ামিলীগ এর হাইব্রিড নেতা / চামচাদের সহযোগিতায় সেই টাকা আত্মসাৎ করার আরেকটা চক্রান্তের ফাঁদ ইতিমধ্যে ফেলে রেখে এখন শুধু অপেক্ষা করবে কবে এই নতুন গেমটায় জয়ী হবে সে আশায়।

আমার এই বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা পড়ে জানি দুই শ্রেণীর অনেক গাত্রদাহ হবে। তাতে কি? কার গাত্রদাহ হলো বা কে আমার লেখার তীব্র সমালোচনা করলো তাতে আমার কোন কালেই কিচ্ছু আসেযায়নি এবং আজো তার বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম নয়। আমি ২০১৪ সালে নিজের ফেসবুক স্টাটাসে যখন বিলুপ্ত “গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান বাটপার কে নিয়ে ওর সত্যি গুলো লিখেছিলাম তখনো এই দুই শ্রেণীর লোকেরা আমাকে হেয় করে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু সত্যি হচ্ছে আল্লাহর আলো তাই আমার সে আলোকে লুকিয়ে রাখতে পারেনি ১৪ সালের লেখা প্রতিটি শব্দ ২০১৫/১৬ সালের মধ্যেই প্রমাণ পেয়ে গেছে প্রতিটি মানুষ। আজকের এই লেখায় ও এক বিন্দু মনগড়া বা মিথ্যে নেই এবং ইনশআল্লাহ খুব শিঘ্রই আবারো সবাই প্রমাণ পাবেন এই সত্যের।

চলবে……

(এর পর লিখবো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজনীতি নিয়ে)

শেয়ার করুন