করোনার আড়ালের জঘন্য রাজনীতি – পর্ব – ০১

প্রকাশিত

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য : সম্ভবত বাঙালীকে এতো বছর বীরের জাতি বলে বেশী আস্কারা দেয়াটাই বর্তমান সময়ে পুরো দেশের মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অচিরেই বাঙালী বিশ্বের সর্বোচ্চ অসভ্য বেয়াদব,অবাধ্য এবং উচ্ছৃঙ্খল জানোয়ার জাতি হিসেবে গিনেস বুক সহ ইতিহাসের খাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে। চলুন সবাই হাতে তালি দিয়ে এই বিশাল প্রাপ্তির জন্য আগাম সেলিব্রেট করি!কারণ সেই সংবাদ শোনার মাহেন্দ্রক্ষণ পর্যন্ত আপনি আমি এবং আমরা বেঁচে থাকবো কিনা তার কোন গ্যারান্টি কিন্তু সত্যি ই নেই।

আর যদি অবাধ্যতার জন্য নোবেল কমিটি একটা ক্যাটাগরি রাখতো তবে অবশ্যই বাঙালীর থেকে সে নোবেল এওয়ার্ড কেউ ছিনিয়ে নিতে পারতো না। বা ড.ইউনুস সাহেবদের মতো টাকা দিয়েও আনতে হতোনা।

কি হলো, ভাবছেন আমি পাগলের প্রলাপ বকছি তাই তো? না আমি সম্পূর্ণ জেনে বুঝে স্বজ্ঞানেই বলছি। এবং কেন বলছি সেটা অনেকেই ঠিক বুঝতে পারছেন, অনেকে আবার ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না কি বিষয় বলছি!

আপনারা অনেকেই জানেন যে ইটালি প্রবাসীদের থেকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। কিন্তু এটা হয়তো অনেকেই জানেন না যে, বাংলাদেশে আসার পর পরই যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো তাদের মধ্যে কতো জন ঠিক সেই সরকারি নির্দেশ মেনেছিলো!

এবং শুধু যাদের পরীক্ষা করে পজেটিভ সাইন নিশ্চিত করে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিলো তার মধ্যে থেকেই ঠিক কতো জন বিভিন্ন ভাবে কেউ লুকিয়ে আবার কেউ কর্তব্যরত পাহারাদারদের প্রবাসীর কড়কড়ে নোটের বিনিময়ে ছাড় নিয়ে চলে গেছিলো।

গত সপ্তাহে যে ইটালি প্রবাসী করোনা নিয়ে মারা গেছে সে ছিলো সেই টাকা ঘুষ দিয়ে কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়ে যাওয়া একজন কিন্তু মরার আগেই সেই কুলাঙ্গার বাংলাদেশের যা ক্ষতি করার করে গেছে। শরীরে করোনার ভয়াবহ ভাইরাস নিয়ে প্রথমে ঢাকা তারপর নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদী এই তিন জেলায় ঐ এক ব্যক্তি ই দেদারসে ভাইরাস বিলি বন্টন করে তারপর মরেছে।

এতো বল্লাম একটার কথা এবার শুনুন রাজধানী মোহাম্মদপুরের বিজলী মহল্লার কাহিনী। আরেক প্রবাসী মোহাম্মদপুরে যে আত্মীয়র বাসায় এসেছিলো সে বাড়ির কর্তা ঐ লোক বাসা থেকে যাওয়ার দু’দিন আগেও যে কিনা সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ ছিলো, সেই প্রবাসী যাওয়ার পরেই বাড়ির লোক করোনার সমস্ত লক্ষণ সহ মারা গেলো।

কিন্তু যেহেতু ঐ এলাকাতে এখনো আটকে পরা পাকিস্তানিদের বেশী বসবাস আর খুব বেশী শিক্ষিত মানুষের বাস ও নেই, তাই ওখানকার লোকজন এই মৃত্যুর খবর পুরোপুরি চেপে গেলো নাকি ভয়াবহতা না বুঝে স্বাভাবিক নিয়মেই জানাজা করে কবর দিয়ে দিলো জানিনা।

তবে তারপর ও নাকি অনেকেরই করোনা লক্ষণ নিয়ে জ্বর কাশিও হয়েছে কিন্তু সেটাকেও পাত্তা দেয়নি। কিন্তু এই সেকেন্ড আক্রান্ত থার্ড পার্টি ঠিক যেখানে যেখানে গিয়েছে, নির্বিচারে জ্বর কাশি নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, যাদের যাদের সাথে সংস্পর্শে গেছে এবার ছড়িয়েছে সেই ফোর্থ পার্টির শরীরে। যথারীতি ফোর্থ, ফিফথ, সিক্সথ পাটির ৩’জন ই মারা গেছে, কিন্তু সেটাও চেপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিলো । তাদের মধ্যে ১ জন ছিলো বাবর রোডের এ ব্লকে ১ জন এফ ব্লকের শুরুতে আরেক জন আদাবর ১ নম্বর রোডে। এই গেলো ফোর্থ পার্টির ৩ জন শেষ এবং এই মোহাম্মদপুরের ভেতরে অনেক বাইপাস গলি থাকায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার লোহার বড় গেট থাকলেও সেটা দিনের বেলা বন্ধ রাখার উপায় নেই।

চলবে….

(কালকে ২য় পর্ব এভাবে লিখবো সেখানে রাজনৈতিক চক্রান্তের ব্যাপার গুলো সব ক্লিয়ার করবো ইনশআল্লাহ)

শেয়ার করুন