করোনার আড়ালের জঘন্য রাজনীতি -পর্ব- ০৪

প্রকাশিত

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক একজন। কিন্তু তার মন্ত্রণালয়ের দু’টি আলাদা বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা…. আবার পরিচালিত হয় আলাদা আলাদা অনেক গুলো অনুবিভাগ/ ইউনিটের সমন্বয়ে । সেই সকল স্থানে দূর্নীতির ব্যাপারে দুদকের সুপারিশে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি বন্ধে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে জনসাধারণের দৃষ্টিগোচর হয় এমন উন্মুক্ত স্থানে সিটিজেন চার্টার প্রদর্শনের বিধান চালু করতে হবে। প্রতিদিন কি কি ওষুধ স্টকে আছে তাও প্রদর্শন করতে হবে। ওষুধ ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে ক্রয় কমিটিতে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

জনবল না থাকলে যন্ত্রপাতি ক্রয় না করাই ভালো। ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইজিপিতে টেন্ডার আহ্বান এবং পিপিআরের বিধানের যাতে ব্যত্যয় না ঘটে তা যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতাল পর্যায়ে যন্ত্রপাতি গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটিতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার স্বার্থে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে তারপর যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার বিধান করতে হবে। এসবই হচ্ছে দুদক এবং সরকারি নির্দেশ। কিন্তু এই নির্দেশের কোন কিছুরই যে তোয়াক্কা করা হয়না এবং এটাও খোদ দুদকের রিপোর্টে এসেছে।

এবার জেনে নিন এই এক মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগে কতো গুলো অনুবিভাগ/ইউনিট এর মাধ্যমে সরকারি কোন নিয়মের ধার না ধেরে প্রতিনিয়ত অনিয়ম গুলো চলছে। এবং ঠিক কাদের চোখের সামনে বা আড়ালে দূর্নীতিবাজেরা নিজ স্বার্থে সকল প্রকার অপকর্ম পরিচালিত করে চলছে-

** স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধিনে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং এর অনুবিভাগ/ইউনিট সমূহঃ
#সচিবঃ জনাব মোঃ আসাদুল ইসলাম।
#ডিজিঃ বর্তমানে বহুল বিতর্কিত অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির দায়িত্ব পান গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত ডিজি (প্রশাসন) হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে ছিলেন এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (প্রশাসন)। ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ।

১৯৯০ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআর (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ২০০১ সাল থেকে। ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের ডিরেক্টর পদের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে আবুল কালাম আজাদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিশনাল ডিজি (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে দায়িত্ব পান, একইসঙ্গে এমআইএসের ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এবার আসছি বহুল আলোচিত বা বিরর্কিত কেন বলছি সেটার ব্যাখ্যায় – এই যে ধরুন তার মতো অতো বড় বড় পদে বছরের পর বছর চাকরী করা এবং লেখাপড়া করা যে লোকটি তার সকল কর্মজীবনের ফিরিস্তি গুগল সেভ করে রাখলো, কিন্তু কোন জেলায় তার বাড়ি / কতো সালে তার জন্ম / কি তার বাবার নাম কি? এসব কোত্থাও নেই! অথচ এতো বিশাল কর্তা ব্যক্তির তো এক্টা পারসোনাল বায়োডাটা থাকা উচিৎ ছিলো গুগলের উইকিপিডিয়ায়! উনি ছাড়া অন্য অনেক আবুল কালাম আজাদ নামের লোকেদের বায়োডাটা ঠিকই রয়েছে উইকিপিডিয়ায়!

যাই হোক উইকিপিডিয়ার না পাওয়া গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইদানীং কালে তার একটা পারিবারিক পরিচিতি পাওয়া যাচ্ছে আমি সেটাই তুলে ধরলাম। এবং যেহেতু তার জন্ম পরিচয় সম্বলিত কোন প্রমাণ পত্র ইউকিপিডিয়া খুঁজে পাওয়া গেলো না, এছাড়া তার ইদানীংকালের এন-৯৫ মাস্ক ক্রয় সংক্রান্ত আজগুবি আত্মপক্ষ সমর্থনে যে বাণী দিয়েছে সেটা আমার অন্তত বিশ্বাস হয়নি। এতো কঠিন এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে জেমএআই নামের প্রতিষ্ঠান সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কের গায় এন-৯৫ সিল লাগিয়ে পাঠাবে এবং সেটা রিসিভ করে বিভিন্ন হাসপাতালে বিলিও করা হবে।

অথচ বিলি করার আগে রিসিভ করার সময় স্যাম্পল হিসেবে প্যাকেট খুলে চেক করা হবেনা! তাও আবার সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি হয়ে আসা প্রোডাক্ট? দিস ইজ নেক্সট ইম্পসিবল!
হ্যা এটা নিয়ে বর্তমান মন্ত্রী, মন্ত্রীপূত্র, সচিব সহ অন্যান্যদের নামে একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রী মহল অনবরত গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে সেটাও সত্যি।

(তবে তারা যে একেবারে ধোয়া তুলসীপাতা তাও কিন্তু নয়।টেন্ডারবাজী নিয়ে দুদক ইতোমধ্যেই উল্লেখিত ব্যক্তিদের দু,তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু ও করে দিয়েছে। সেসব পরে বলবো।)

যা বলছিলাম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত পরিচয়ঃ
“ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ। পিতা ওসমান গনি একজন কুখ্যাত রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধী ব্যাক্তি।
নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো এই ওসমান গনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় লুটপাট চালিয়ে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যায় ওসমান গনি।

নীলফামারী মহকুমার তৎকালীন এসডিও আবদুল মুহিত চৌধুরী কর্তৃক ১৯৭১ সালের মে মাসের ২৪ তারিখে স্বাক্ষরিত থানা ও ইউনিয়ন ‘শান্তি কমিটি’র তালিকায় ওসমান গনির নাম ২য় পাতার ৩৫ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে:
নাম: ওসমান গনি, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। লক্ষ্মীচাপ,
গ্রাম: কচুয়া,
পোস্ট: রামগঞ্জ,
পদবী: সদস্য, থানা ও ইউনিয়ন ‘শান্তি কমিটি’, জলঢাকা।

নীলফামারী জেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের স্বাধীনতাবিরোধী শান্তি কমিটির নেতা ওসমান গণির বড়পুত্র বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ বিতর্কিত মহাপরিচালক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ। ওসমান গনির ছোটপুত্র আমিনুল ইসলাম লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান, গতবার আমিনুল ইসলাম বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছিল। বর্তমানে স্বাধীনতা বিরোধীর পুত্র আমিনুল ইসলামকে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে টেনে এনেছে আসাদুজ্জামান নূর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ বিএনপি পন্থী ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাব-এর আজীবন সদস্য, স্বাধীনতা বিরোধীর এই সন্তান ও রাজনৈতিক ভাবে বিএনপিপন্থি! ”

এই ” চিহ্ন দিয়ে কোট করা অংশ টুকু অর্থাৎ বর্তমান ডিজির বায়োডাটার ব্যাপারে আমি শতভাগ কনফার্ম নিউজ এখনো হাতে পাইনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো এই পরিচয়ের বিরোধিতা অথবা প্রতিবাদ করতেও কাউকে পাইনি বলে হবহু তুলে দিলাম এর দায় টা ঠিক আমার নয়।

এছাড়া তাদের অধিনে রয়েছে-
#প্রশাসন অনুবিভাগ
#বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ
#নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগ,
#অটিজম সেল শাখা,
##উন্নয়ন অনুবিভাগ (মো. সাইদুর রহমান)
##আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ (শেখ মুজিবর রহমান)।
##বাজেট অনুবিভাগ (রাশেদা আকতার)।
#হাসপাতাল শাখা,
##ঔষধ প্রশাসন শাখা ও জনস্বাস্থ্য (মো. ইসমাইল হোসেন)।
##সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ (শেখ শোয়েবুল আলম।
#আইন অনুবিভাগ,
##মনিটরিং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান শাখা (মো. মঈনউদ্দীন চৌধুরী)।
#তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল অনুবিভাগ,
#এফএমএইউ ও সিবিএমই শাখা।
##বাজেট ১ ও ২ অধিশাখা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিশাখা। (ড.মো.এনামুল হক)
##উন্নয়ন অধিশাখা এবং ক্রয় ও সংগ্রহ ( মো. সাইফুল্লাহিল আজম)।
#বিশ্ব স্বাস্থ্য এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শাখা।
##মানব সম্পদ ( সৃজন, স্থায়ীকরণ ও পদসংরক্ষন (সাবিনা আলম)।
#প্রশাসন শাখা,
#পার অধিশাখা,
#পরিকল্পনা শাখা ইত্যাদি।
এবং
এখানে উল্লেখ্য বর্তমান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি সাহেব পূর্বে উক্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনের কোন কোন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন সেটা আরেকবার দেখে মনে রাখুন পরের পর্বে যদি বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় তখন আমি ঠিকই লিখবো কিন্তু আপনারা আবার গুলিয়ে না ফেলেন তাই বললাম।

** স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর
#সচিবঃ মোঃ আলী নূর।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের….

চলবে……

২০ এপ্রিল ২০২০

(আগামী পর্বে থাকবে কারা কোথা থেকে সারাদেশের এই লকডাউন এর সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহ সরকারের সকল কর্মযজ্ঞের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং দুদক কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিষয়ে।)

শেয়ার করুন