করোনাময় নববর্ষে হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ

প্রকাশিত

তানভীর আলাদিন : কিছুক্ষণ পরেই শুরু হবে ১৪২৭ বঙ্গাব্দে আমাদের যাত্রা…। তারপরও এবার বলতে পারছি না শুভ নববর্ষ..!

এবারের যাত্রাটা তালপাখার হাতপাখার বাতাস আর মেলা থেকে কেনা মুড়ি-বাতাসা খেতে-খেতে নাগরদোলায় দোল খাওয়ার মধ্যে হচ্ছে না!

তাই শুনবোনা দূর থেকে ভেসে আসা মেলা থেকে কিনে আনা কারো নতুন বাঁশিতে কোনো বেরসিক আনকোরা সূর…!

টিএসসি থেকে রমনার বটমূল সর্বত্রে থাকছে ভৌতিক নিস্তব্ধতা!! গ্রাম্যমেলার সেই অচিন বৃক্ষটার বোবামনও হয়তো খুঁজবে প্রতিবছরের আগুন্তুকদের…।

গত ১৪২৬-এর পহেলা বৈশাখে আমরা আমাদের বাসস অফিসে উদযাপন করেছিলাম নববর্ষ। আর এবারের নববর্ষে আমরা সবাইতো এক সঙ্গে অফিসেও থাকতে পারছি না…!

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস আমাদের যেনো মানব বোমা বানিয়ে দিয়েছে! আমরাই যেনো আজ আমাদের প্রজাতির জন্য হুমকি, পরষ্পরের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে ঐশ্বরিক এক অমানবিক দেয়াল।

পরম করুণাময়ের কাছে আকুল প্রার্থনা: “ফিরিয়ে দিন আমাদের সেই সব বর্ণালি দিনগুলো। যেখানে স্বজন-বান্ধব মিলে হারাতে পারবো মানবতার মিলন মোহনায়।”

একদিন এই বিশ্বসহ দেশটাও ঠিক হাসবে, গাইবে… করোনা মুক্তির জয়গান! তার জন্যে এখন আমাদেরকে আর কিছুটা সময় হয়তো ঘরে থাকার ধৈর্য ধরতে হবে, ঘরে থাকতে হবে… হয়তো এই ফাঁকেই চলে যাবে আমাদের বৈশাখ, ঈদ কিংবা পুজো-পার্বন। যাক তাতে কি আপাতত ঘরে বসেই না হয় আমরা বই পড়ে, গান শুনে, নাটক-সিনেমা দেখে দিবসগুলো পার করে যাই।

তবে মজার বিষয় হলো হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে আমি ধর্ম-কর্মে অনেকটা সময় কাটিয়ে দিতে পারছি… এতে মনটায় পবিত্র এক প্রশান্তি লাগছে। আপনিও মনোনিবেশ করে দেখতে পারেন।

আমরা কে থাকি আবার কে নাই হয়ে যাই করোনার এই করাল থাবায় জানি না। তবে এই টুকু মানি করোনা একদিন পরাজিত হবেই হবে মানুষের কাছে…। তখন বেঁচে যাওয়া মুক্ত হাওয়ার মানুষগুলোর কাছে মুক্তির দিনগুলো হবে ঈদ-পুজো আর নববর্ষের আনন্দের মতো…!

সেই অনাগত দিন নিয়ে বলতে চাই- আনন্দযজ্ঞের সরোবরে আজকের কোয়ারেন্টাইনের কষ্টকর দিনগুলোকে মনে রেখো বন্ধু-স্বজন।

মনে রেখো- যে সব ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সেনাসদস্য, সাংবাদিক,ওষুধ-মুদি-কাঁচা বাজারের দোকানি, পণ্যবাহী ট্রাকচালক-হেলপার, এম্বুল্যান্স চালক-এমআর, বিদ্যুৎ-গ্যাস-ইন্টারনেট সেবাদানকারীকর্মী ও বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মীদের সাহসী আত্মত্যাগের কথাগুলো।

সেদিন আনন্দযজ্ঞে দাঁড়িয়েই কাজ করতে হবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের। তখন দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করতে হবে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধের। কারণ যে কোনো যুদ্ধ শেষে সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হতে দেখা যায়। করোনাো কিন্তু একটা বৈশ্বিক যুদ্ধের মতো। এমন পরিস্থিতিতে আমি আপনি বাঁচবো কি মরবো এমন এক ভয়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। এমন সময় মানুষের মন কোমল ও পবিত্র থাকে। তাই আমার মনে হয় এখনই আমাদের শপথটা হোক কোরোনার পরে বেঁচে থাকলে- “আমরা হবো মানবিক মূল্যবোধ রক্ষাকারী ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আগ্রণী সেনা।

তার আগে ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি, সুস্থ রাখি আমার দেশ ও আমাদের বিশ্ব। পহেলা বৈশাখ-১৪২৭ এ হোক আমাদের এই দৃপ্ত শপথ।”

* সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক।

শেয়ার করুন