ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ শনিবার, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী ও জনতার মধ্যে সংহতির প্রকাশ ঘটেছিল।

রাষ্ট্রীয় জীবনের এক অরাজক অবস্থা ও রাজনৈতিক শূন্যতার মাঝে সেদিন সিপাহী-জনতার মুক্তির বিপ্লব ঘটেছিল।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট দিনটিকে পালন করছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, তাদের শরিক জাসদ দিনটিকে সৈনিক হত্যা দিবস, কর্নেল তাহের হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে।

দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন একটি বিনাভোটের সরকার ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত। তারা দমন-নিপীড়নের মধ্যদিয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুই ক্ষমতায় থাকতে বিভোর হয়ে উঠেছে।’

তিনি এই দুঃশাসনের অবসান হওয়া জরুরি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া বিএনপি দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমাদ ক্ষমতা নেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি ২০ আগস্ট সামরিক শাসন জারি করেন।

৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খোন্দকার মোশতাক ক্ষমতাচ্যুত হন।

তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়ার রহমানকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ৬ নভেম্বর খালেদ  মোশাররফ বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট করেন। এ ঘটনার পর ঢাকা সেনানিবাসে জওয়ানদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়। তারা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠেন। সেদিন দেশের এক ক্রান্তিকালে সিপাহি জনতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনার মঞ্চে নিয়ে আসেন।

১৯৭৫ সালের পর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সে ছুটি বাতিল করে। ২০০১ সালে চার-দলীয় জোট সরকার ছুটির পুনর্বহাল করলেও আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তা ফের বাতিল করে।

শেয়ার করুন