এ কেমন দেশরে বাপু! ভিআইপি কবর নাই!

প্রকাশিত

মো. আল-আমিন (মাসুদ) : আমি ভি আই পি। যত দূর জানি ইংরেজির শেষের দিকে তিনডা শব্দই হইবো V I P. আরে ধুর মিয়া!!! খুব সহজেই তো তিনডা শব্দ পইড়া লাইলেন! উচ্চারণের সময় আদব শ্রদ্ধা কই রাখলেন? ওজন আর খেমতা জানেন এই শব্দের? টাকার অঙ্কে তিনটি শব্দের দাম জানেন কত? অর্থ জানেন?

-যাকগে, আপনাগো বইকা মাথাডা আউলাইতে চাই না। তয় অর্থডা আমিও জানি না। দেহি আইজকা পোলার থিকা জাইনা নিমু নে। দিনকাল যা পড়ছে, বেটা বেকার সাংবাদিকগো আর কাম কাইজ নাই, মানি লোকে মানের লুঙ্গি লইয়া খালি টানা টানি করে। দুই চাইর কলম পড়া ভার্সিটির ছোকড়াগুলানও কম না, নিজেগোরে দেশের প্রেসিডেন্ট মনে করে। কে জানে রাস্তায় পাইলে মোবাইল একখান সামনে ধইরা নাকি কইতে কয় ভি আই পি অর্থ কি। এগো দিয়া আসলে বিশ্বাস নাই! এরা কি বুঝবো কত কাঠখড় পোড়াইয়া এই সিলডা গায়ে মারা লাগছে। তয় কষ্ট যা করছি কামে দিছে, এহন নিজের এক ফোনে পাঁচ-দশ জনরে ভিআইপি বানাইতে পারি।

বাসের হেল্পার থিকা নেতা হইতে লাগছে ১০ কোটি। হুদা টাহাতেই কাজ হয়নাই। রাজনীতি অত সোজা না গো বাপু। পাতাইন্না ভাইয়ের কাকা শ্বশুরের শ্বশুর বাড়িতে একটা দামি গাড়ি আর কিছু উপহারও পাঠাইতে হইছে। আরো কিছু খরচা-পাতি আছিলো, ঐগুলা কওয়া যাইবো না, সমস্যা আছে। এতকিছু কইরাই শেষমেষ হইছি জন দরদী। রাস্তাডা এত সোজা না ভাই। সবই রাজনীতি খেইল।

তারপরও দম পাইতাছিলাম না। পাছে বিরোধী দলের খপ্পরে পইড়া যাই। জীবনের উপর একটা মায়া লাইগা গেছে। আগে এতো মায়া আছিলো না। এহন এতো এতো কামানোর পর মনে হইতাছে, খরচ না কইরা মরলে কবরে যাইয়াও পরাণডা পোড়াইবোরে ভাই। এতো অল্পতে এ জীবনডা হারাতে চাই না।

অনেক ভাইবা টাইবা একটা বুদ্ধিও খাড়া কইরালাইছি। বিরোধি দলের নেতার পিছে কিছু টাকা খসাইসি, লগে কয়ডা পোলাপান দিয়ে হুমকি ধামকি দিয়া ছোট ভাইডারে আমার এলাকার বিরোধী দলের বড় নেতাও বানাইছি। ভাইডা এলাকায় ঘুইরা ঘুইরা নেশা কইরা নষ্ট হইতাছিলো। লগে হুনছি মাইয়াগো পাল্লায়ও পড়ছিলো। যাক এহন ওরও একটা গতি হইলো। আমিও শান্তিতে থাকতে পারমু। আমারে আর ঠেকায় কে। পরিবেশডা ঠিক থাকলে শুধু সরকারি দলের ত্রাণ, আর বিরোধী দলের ত্রাণ মাইরাইতো সিঙ্গাপুরে ডায়না বিবির লগে হানিমুনের টাহাডা হইয়া গেছিলো। কপালে না থাকলে যা হয় আর কি। কি এক বেরাম আইলো! যারে তারে নাকি ধইরা বহে। বাছ বিচার করে না। হুদা ধরেই না, ধইরা একবারে নেতাইইয়া হালায়। খবরেও হুনতাছি পুরা পৃথিবীত অনেক মানুষ মারতাছে বেরামডায়।

ঐ দিন আবার হুনলাম দলের এক নেতার নাকি বেরামডা হইছে। বস তো আছিলো শক্ত মানুষ। এক ধমকে ওপর মহল পর্যন্ত কাপাকাপি করতো। হেই মানুষডা কেমনে নেতাইইয়া পইড়া গেলো সবার সামনে!!! দেখলে খারাপই লাগে। এতো এতো টাহা পয়সা করছে। কিন্তু এহন ডাক্তার দেহাইতে বিদেশ যাইতে পারে না। দেশের হাসপাতালেও ভরসা পায় না। মাইরা খাইয়া তেমন কিছুতো বাকি নাই হাসপাতালের। দুই চাইডা যা আছে ঐহানে আবার জনগণের হানা। কি এক অবস্থা!!!

বুঝলাম জনগণের টাহা নাই তাগো বিনা চিকিৎসায় মরা জন্মগত অধিকার। কিন্তু আমাগো?! আমরা কি দোষ করছি?! টাহা যা লাগে দিমু, কিন্তু হাসপাতালে সিট আমার লাগবোই। যেমনেই হোক ভালা হাসপাতালের কয়ডা সিটের দখল আমার লইতেই হইবো। না বাঁচলে টাহা-পয়সা, ক্ষেমতা দিয়া কি কাম হইবো? দেহি কি করা যায়। জনগণতো পরের কথা নিজের নেতাকর্মীগোই লিষ্টের বাইরে রাখছি। রাস্তায় হুইয়া মরুক আর বাসায় পইচ্চা মরুক আমার কি। খালি দুই পোলা মাইয়া, দুই বিবির আর নিজের লাইগা যেমনেই হোক হাসপাতালে সিট রির্জাভ রাখতেই হইবো। নাইলে এই যাত্রায় রক্ষা নাই।

ইদানিং খারাপ খারাপ খোয়াবও দেখতাছি। খোয়াবগুলাও অনেক জ্বালায়। সময় বুঝে না, মানুষ বুঝে না। কাইল রাইতেও একটা খারাপ খোয়াব দেখছি, “দেখছি অন্ধকার এক ঘরে আছি, খুব অন্ধকার। আশে পাশে না আছে আলো, না আছে বাতাস। অান্ধার আর ভাবসা বাতাসে খোয়াবের মধ্যেই দম আটকাইয়া মরতে লইছিলাম। যাক ভাগ্য ভালো ঘুম ভাঙ্গছে আর দেখি এহনো বাঁইচা আছি!!

দেহি কাইলকাই নিজেগো এলাকার কবরস্থানে কয়ডা লাইট আর ফ্যান লাগাইতে হইবো। এসির ব্যবস্থাও নেতাগো ধইরা করা যাইবো, ক্ষেমতাতো আল্লাহ কম দেয় নাই। তয় এই দেশডা আর ভাল্লাগে না। কি এমন দেশরে বাপু, ভিআইপি কবর নাই!!!

(নোট- এই গল্পের চরিত্র ও ঘটনা সম্পূর্ণটাই কাল্পনিক। এটা পড়ে কারো খারাপ লাগলে বা ক্রোধ হলে ক্ষমা করবেন প্লিজ। শুধু রাস্তায় আলাদা ভিআইপি লেন এবং আলাদা ভিআইপি হাসপাতাল প্রত্যাশিদের বলতে চাই, “ভাই কবরে কিন্তু ভিআইপি স্পেস নাই, থাকতে পারবেন তো?”)

২২ এপ্রিল, ২০২০

লেখক : শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

শেয়ার করুন