এরফান সেলিম ও দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লা কারাগারে

প্রকাশিত

এরফান সেলিম। ছবি: ইন্টারনেট

 

মুক্তমন ডেস্ক : অস্ত্র ও মাদকের পৃথক ৪ মামলায় বিতর্কিত সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে এরফানের দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার ঢাকা মহানগর আদালতের হাকিম মইনুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

এদিন এই দুই আসামিকে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়।

উভয়পক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

গত ৮ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় তিনদিন এবং মাদক মামলায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় দুই দফায় রিমান্ড শেষে গত ৪ নভেম্বর এরফান সেলিমকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। একইদিন দেহরক্ষী জাহিদ এ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের এবং এরও আগে গত ২৮ অক্টোবর প্রথম দফায় এরফান সেলিম ও জাহিদকে তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। মামলায় রিমান্ড শেষে ইরফান সেলিমের সহযোগী এবি সিদ্দিকী দিপু এবং হাজী সেলিমের গাড়িচালক মো. মিজানুর রহমান খান কারাগারে আছেন।

গত ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটি হাজী মহসীনে কর্মরত লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ছেলে এরফান সেলিম, এবি সিদ্দিক দিপু, মো. জাহিদ ও মো. মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজারে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানকালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে এরফান সেলিমকে এক বছর কারাদ­ণ্ড দেন। আর অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদ­ণ্ড দেন।

দুই মামলায় মোট দেড় বছরের সাজা দেয়া হয় তাকে। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাসের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ওই অভিযানে অস্ত্র, ইয়াবা, বিদেশী মদ, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় এরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি করে মোট চারটি মামলা হয়। এ ঘটনার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকে ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন