একদিনে সারা দেশে ২৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত

দেশের ছয়টি স্থানে ছয়টি হত্যা মামলায় সোমবার ২৮ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও দুজনকে যাবজ্জীবন সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী মডেল সুমাইয়া কানিজ ওরফে সাগরিকাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ আজ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। অন্য পাঁচ জেলায় নিম্ন আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন সরকার হত্যা মামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১১ জনকে, নারায়ণগঞ্জে শিশু ইমন হত্যা মামলায় চারজনকে, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. ইউসুফকে হত্যার দায়ে চারজনকে, সিলেটে শিশু আবু সাঈদকে হত্যার দায়ে পুলিশ কনস্টেবল ও ওলামা লীগের নেতাসহ তিনজনকে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে তাঁর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

গাজীপুর : কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন সরকার হত্যা মামলার রায়ে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী ভূঁইয়া জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন—কাপাসিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবদুল আলিম, বিএনপিকর্মী বেলায়েত হোসেন বেল্টু, আতাউর রহমান, ফরহাদ হোসেন ও জয়নাল, থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলিম ফকির (পলাতক), কাপাসিয়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল (পলাতক), যুবদল সদস্য জজ মিয়া (পলাতক), ছাত্রদল নেতা আল অমিন (পলাতক) ও মাহবুবুর রহমান রিপন (পলাতক)।

গাজীপুর জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হারিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০০৩ সালের ১৭ আগস্ট আসামিরা জালাল উদ্দিন সরকারকে কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামের বলখেলা বাজারের পাশে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত জালাল উদ্দিন সরকারের ভাই মিলন সরকার বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১১ জনকে অভিযুক্ত করে গাজীপুর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আদালত মোট ২২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১১ আসামির প্রত্যেককে ফাঁসির দণ্ডাদেশ ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।

পিপি হারিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, সাজা পাওয়া আসামিরা কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিহত জালাল উদ্দিন সরকারের বাবা আমজাদ হোসেন, মা হালিমা বেগম, মেয়ে হৃদি ও ভাই মামলার বাদী মিলন সরকার উপস্থিত ছিলেন। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁরা এ রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট হারিজ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ড. অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান।

এদিকে, রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে আদালত প্রাঙ্গণে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করে আনন্দ প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে শিশু রকিবুল হাসান ইমন (১৪) হত্যা মামলায় চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল হক মিয়াজী এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলার বাদী ইমনের মা ফেরদৌসী বেগম।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ইমনকে অপহরণ করে আসামিরা। সে মরিসাস প্রবাসী নূরু মিয়ার ছেলে। অপহরণের পর তাঁর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। অপহরণের ৩৫ দিন পর বন্দর থানার মালিভিটা এলাকার একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন সাজাহান আলী জীবন, জামাল, সাইদুর রহমান ও তোফাজ্জল। তাঁদের মধ্যে শেষের দুজন পলাতক।

একই ঘটনায় গত মাসে এই আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১০ বছর বয়সী আল-আমিনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী নবী হোসেন জানান, রায়ের পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইমনের মা ফেরদৌসী বেগম আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

এ ঘটনায় ইমনের মা মামলা করেছিলেন তাঁর দেবর সাইদুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মো. ইউসুফ নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে হত্যার দায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সকালে চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামি হলেন—আবুল কালাম, নুরুল আলম, মো. রুবেল ও মো. কাউসার। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে আরিফুল ইসলাম ও নঈম উদ্দিনকে।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০০৮ সালের ৩ মে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে আনোয়ারা যাওয়ার পথে গুমদণ্ডী এলাকায় খুন হন অটোরিকশার চালক মো. ইউসুফ। এ ঘটনায় নিহতের খালাতো ভাই হাশেম বোয়ালখালী থানায় মামলা করেন। পরে সাতকানিয়া থেকে পুলিশ অটোরিকশাসহ পাঁচজনকে আটক করে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ আদালত এ রায় দেন।

সিলেট : সিলেটে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শিশু আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্য, পুলিশের সোর্স ও ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রশিদ আজ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন নগরীর বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুল, র‌্যাবের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা, সিলেট জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম রাকিব।

আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রচার সম্পাদক মাহিব হোসেন মাসুমকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সব আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

চলতি বছরের ১১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর রায়নগর থেকে স্কুলছাত্র আবু সাঈদকে অপহরণ করা হয়। এর পর থেকে সাঈদকে উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ। ১৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুলের ঝরনারপাড় সবুজ-৩৭ নম্বর বাসার ছাদের চিলেকোঠা থেকে সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মামলার পর গত ১৭ নভেম্বর সাঈদ অপহরণ ও হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

গত বৃহস্পতিবার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সাঈদ হত্যা মামলায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর শিশু সাঈদের বাবা ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

সাঈদের বাবা আবদুল মতিন জানান, তিন আসামির ফাঁসির রায় হয়েছে। তিনি খুশি। সরকারের কাছে তাঁর দাবি, এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুল মালিক বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। যে তিনজনের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করেছি, আদালত তাঁদের ফাঁসির রায় দিয়েছেন।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ আশরাফ জানান, রায়ে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হয়নি। মামলার নথিতে গুরুত্বপুর্ণ ত্রুটি রয়েছে। এ রায় উচ্চ আদালতে গেলে তা বাতিল হবে বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়া : জেলার দৌলতপুর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুষ্টিয়ার একটি আদালত। আজ দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রেজা মো. আলমগীর হাসান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

দণ্ডাদেশ পাওয়া রোকন মণ্ডল উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর স্ত্রী লাইলী আক্তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী মামলার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, ২০১১ সালের ২৬ আগস্ট রাতে ভ্যানচালক রোকন মণ্ডল জুয়া খেলে টাকা হেরে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে রাত ৯টার দিকে রোকন স্ত্রীকে বাড়ির পাশে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ নর্দমায় ফেলে দেয়। দুদিন পর লাইলীর গলিত লাশ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা লাল চাঁদ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তার পর পুলিশ রোকনকে গ্রেপ্তার করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর আলম গালীব।

ঢাকা : রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী মডেল সুমাইয়া কানিজ ওরফে সাগরিকাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে ট্রাইব্যুনালে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—আলী আশরাফ ওরফে লিটন, ইব্রাহীম, মো. খলিল ওরফে হিজড়া খলিল, আল-আমিন ও খলিল শেখ। আসামিরা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন চেয়ে আবেদনের শুনানি শেষে আজ সোমবার বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি এ এন এম বশির উল্লাহর ‍হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক। এনটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘এ মামলার তদন্তে কিছুটা ত্রুটি ছিল। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট নই। তাই উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আরো ছিলেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইয়াহিয়া দুলাল, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান ও অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান মোহন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মডেল ও নাট্যশিল্পী সাগরিকাসহ অন্য আসামিরা জাহাঙ্গীরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর সঙ্গে আসামি লিটন ও ইব্রাহীমের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ কাজে বাধা দেওয়ায় আসামিরা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের বাবা ফিরোজ আলম বাদী হয়ে শ্যামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরে ২০১০ সালের ২১ জুলাই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক কানিজ আক্তার নাসরিনা খানম এ মামলার আসামি সুমাইয়া কানিজ ওরফে সাগরিকাসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ ও জেল আপিলের শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট আলী আশরাফ ওরফে লিটনকে খালাস দিয়ে বাকিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

শেয়ার করুন