একটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ

প্রকাশিত

সামির আহমেদ সলিম : আজ দুপুরে সূর্য গ্রহণ। ছালাতুল কুসূফ আদায় করুন! কবরের আযাব থেকে মুক্তি প্রার্থনার উত্তম সুযোগ গ্রহণ করুন!

আজ ২১ জুন, রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৩ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত সূর্যগ্রহণ হবে। এই গ্রহণ শুরু হ’লে আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভীতি সহকারে জামা‘আত সহ দু’রাক‘আত নফল ছালাত দীর্ঘ ক্বিরাআত ও ক্বিয়াম সহকারে আদায় করতে হয় এবং শেষে খুৎবা দিতে হয়।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের ভয় দেখিয়ে থাকেন। যখন তোমরা সূর্য গ্রহণ দেখবে, তখন ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দো‘আ ও ইস্তেগফারে রত হবে। বুখারী হাদীছ নং ১০৫৯। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এসময় রাসূল (ছাঃ) কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। বুখারী হা/১০৫০।

রাসূল (ছাঃ)-এর জামাআতে নারীরাও অংশগ্রহণ করেছেন। মুসলিম হা/৯০৪। (রাসুলের সাথে ছালাত আদায়ের পর) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি কখনো এত দীর্ঘ সময় সিজদায় কাটাইনি। বুখারী হা/১০৫১।

মসজিদে না যেতে পারলে বাড়িতেই একাকী বা পরিবার-পরিজন সাথে নিয়ে ছালাতটি আদায় করুন। নারীরাও এ সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না। করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে আসুন তওবা-ইস্তেগফার ও কবরের আযাব থেকে মুক্তি প্রার্থনার এই সুযোগটি গ্রহণ করি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন- আমীন।

? ছালাতুল কুসূফ আদায়ের পদ্ধতি
সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ কালে যে নফল ছালাত আদায় করা হয়, তাকে ছালাতুল কুসূফ ও খুসূফ বলা হয়। এই ছালাতের বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। যাতে দু’রাক‘আত ছালাতে (২+২) ৪টি রুকূ ও ৪টি সিজদা হয় এবং এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ।
সূর্য গ্রহণ হ’লে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছালাত আদায় করতেন এবং ছাহাবায়ে কেরাম তাঁর সাথে ছালাত আদায় করে।

প্রথমে তিনি ছালাতে দাঁড়ালেন এবং সূরা বাক্বারাহ্র মত দীর্ঘ ক্বিরাআত করলেন। অতঃপর (১) দীর্ঘ রুকূ করলেন। তারপর মাথা তুলে ক্বিরাআত করতে লাগলেন। তবে প্রথম ক্বিরাআতের চেয়ে কিছুটা কম ক্বিরাআত করে (২) রুকূতে গেলেন। এবারের রুকূ প্রথম রুকূর চেয়ে কিছুটা কম হ’ল। তারপর রুকূ শেষে তিনি থেকে মাথা তুলে দুটি সিজদা করলেন। অতঃপর সিজদা শেষে তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং লম্বা ক্বিরাআত করলেন। তবে প্রথমের তুলনায় কিছুটা ছোট। এরপর তিনি (৩) রুকূ করলেন, যা আগের রুকূর চেয়ে কম ছিল। রুকূ থেকে মাথা তুলে পুনরায় ক্বিরাআত করলেন। যা প্রথমের তুলনায় ছোট ছিল। অতঃপর তিনি (৪) রুকূ করলেন ও মাথা তুলে সিজদায় গেলেন। পরিশেষে সালাম ফিরালেন।

ইতিমধ্যে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। অতঃপর ছালাত শেষে দাঁড়িয়ে তিনি খুৎবা দিলেন এবং হামদ ও ছানা শেষে বললেন যে, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি বিশেষ নিদর্শন। কারু মৃত্যু বা জন্মের কারণে এই গ্রহণ হয় না। যখন তোমরা ঐ গ্রহণ দেখবে, তখন আল্লাহকে ডাকবে, তাকবীর দিবে, ছালাত আদায় করবে ও ছাদাক্বা করবে। … আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তাহ’লে তোমরা অল্প হাসতে ও অধিক ক্রন্দন করতে’। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এর মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের ভয় দেখিয়ে থাকেন। অতএব যখন তোমরা সূর্য গ্রহণ দেখবে, তখন ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দো‘আ ও ইস্তেগফারে রত হবে।
-মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪৮২-৮৪।

শেয়ার করুন