একজন মাজলুম বীর জ্যাক স্প্যারো!

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক : ইসলামি ইতিহাস সবচেয়ে বেশি বিকৃতির শিকার। বিশেষ করে ইসলামের গৌরবময় ব্যক্তিবর্গ। আর তা ইসলামের জানের দুশমন পশ্চিমাদের দ্বারা! সেরকমই একজন হলেন ‘জ্যাক স্প্যারো’। পশ্চিমা ফিল্ম নির্মাতারা ‘জন ডেপ’ নামক অভিনেতাকে ‘পিরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ ফিল্মে উপস্থাপন করেছেন। এই জ্যাক স্প্যারো আসলে মধ্যযুগের একজন নামজাদা মুসলিম বীর। জন্মগ্রহণ করেন ১৫৫৩ সালে ব্রিটেনে। মারা যান ১৬২২ সালে তিউনিসিয়ায়।

ইনসাইড হলিউডের দেয়া তথ্যমতে, জ্যাক স্প্যারোর প্রকৃত নাম জ্যাক ওয়ার্ড। তাকে জ্যাক বার্ডি নামেও চেনা যেত। তিনি গ্রেট ব্রিটেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কেন্ট রাজ্যে এক দরিদ্র পরিবার জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেবেলায় বিল-হাওড়ে মাছ শিকার করেন। ১৫৮৮ সালে ভূমধ্যসাগরে ব্রিটিশ নৌবহর ও স্পেনিশ নৌবহরের মধ্যকার আর্মাদার যুদ্ধে রাণী প্রথম এলিজাবেথের নির্দেশে ব্রিটিশদের পক্ষে দস্যুবৃত্তি করেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ভূমধ্যসাগরে জলদস্যুতা শুরু করেন। এক ত্রাস হয়ে ওঠেন। ইতিমধ্যে ব্রিটেনের রাজা হন প্রথম জেমস। তিনি স্পেনের সাথে বন্ধুপ্রীতি শুরু করেন। তাকে দস্যুবৃত্তি ছাড়ার আদেশ করেন। তিনি ও অন্যান্য জলদস্যুরা তা মানতে পারেননি। পরোয়ানা জারি হয় তার নামে। তিনি বিপদ আঁচ করতে পারেন।

এজন্য ষষ্টদশ শতাব্দীর শেষদিকে পলায়ন করে তিউনিসিয়া চলে যান। কেননা তিউনিসিয়া ছিল তখন উসমানি খিলাফতের অধীন। এরপর মরক্কোর ‘সালা’ অঞ্চলের ‘আবু রাকরাক’ এলাকায় ঘাটি গেড়ে দস্যুবৃত্তি চালিয়ে যান। কিন্তু মুসলিম ভূখণ্ডে থাকতে থাকতে একসময় আল্লাহ তার দিলে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেন। তিনি ও তার জাহাজের পুরো দস্যু স্টাফ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এবং তারা উসমানী সাম্রাজ্যের শক্তিশালী নাবিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার ইসলামি নাম ছিল ‘ইউসুফ রেইস’। খুব বেশি পাখিপ্রীতির কারণে তাকে ‘স্প্যারো” নামক পাখির নাম দিয়ে দেয়া হয়। পরে এটাই কারণ হয়ে যায় জ্যাক স্প্যারো নামের। কেননা, ইংরেজিতে স্প্যারো অর্থ চড়ুইপাখি।

তিনি খুব বেশি মদ্যপ ছিলেন। বলতে গেলে এ- ক্ষেত্রে ছিলেন প্রবাদপ্রতিম। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পর মদপান ছেড়ে দেন। মধ্যযুগীয় গির্জার জুলুম থেকে বাঁচতে ইয়াসমিন সাকলিয়্যাহ নাম্নী এক যুবতী ইসলাম গ্রহণ করেন। সেই পলাতকা যুবতীকে তিনি বিয়ে করেন।

ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে আন্দালুসের মরিস্কো মুসলমানরা স্পেনের খ্রিস্টানদের হাতে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হন। ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য তাদের ওপর কিয়ামত বইতে দেয়া হয়। হাজার হাজার মরিস্কো মুসলমান স্পেন থেকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে পলায়ন করে। এদের বিপদে এগিয়ে আসেন জ্যাক স্প্যারো। মজলুম মুসলমানদের বাঁচানোর দায়িত্ব নিজ কাঁধে উঠিয়ে নেন। বর্ণিত আছে যে, আন্দালুসের নির্যাতিত মুসলমানদের বাঁচাতে তিনি মরক্কোর জলদস্যুদের সাথে আঁতাত গড়ে তুলেন।

আন্দালুসি মুসলমানদের হত্যাকারী বুনো খ্রিস্টানদের সাথে তিনি ও তার জাহাজের মাল্লারা গেরিলাযুদ্ধে লিপ্ত হন। তাদের হাতে খ্রিস্টানরা নাকানিচুবানি খেতে থাকে। একসময় অবস্থা এই পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াল যে, খ্রিস্টানরা তার নাম শুনামাত্রই আঁতকে উঠত!

তিনি ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান। তার সামুদ্রিক জ্ঞান, বুদ্ধি ও রহস্য দেখে মাল্লারা যারপরনাই আশ্চর্য হয়ে যেত। বাস্তবিকপক্ষে তিনি একজন সামুদ্রিক ক্যাপ্টেন ছিলেন। মধ্যযুগে পুরো বিশ্বের মধ্যে ছিলেন একজন সাগরসম্রাট।

মধ্যযুগের নামকরা এই মুসলিম বীরের নামে বেরিয়েছে অনেক নামিদামি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম। কিন্তু ফিল্ম নির্মাতা পশ্চিমা নরাধমরা তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেনি! যিনি সারাজীবন ইসলাম ও মুসলমানদের ত্রাতা ছিলেন। আল্লাহর দীনের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ রহম করুন তার দীনের এই একনিষ্ঠ খাদেম ইউসুফ রেইস ওরফে জ্যাক স্প্যারোর ওপর।
——-
সূত্রাবলি:
১-101 لغز برباروسا- ২৩৩, জিহাদ তুরবানি
২- مدينة المسلمين في الأندلس, জুসেফ ম্যাক
৩-উইকিপিডিয়া (আরব)

শেয়ার করুন